কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার মশালের চরে বসবাসকারী জরিনা বেগম, সাজেদা বেগম ও নাসরিন বেগম তিন জন প্রসূতিকালে অপচিকিৎসার কারণে জীবন ও সন্তানের মৃত্যুর সম্মুখীন হন। তাদের ঘটনার মূল কারণ অক্সিটোসিন ইনজেকশন অতিমাত্রায় ব্যবহার।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ৬০০ প্রসূতির মধ্যে ৯৯ জনকে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অক্সিটোসিন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ৫৯টি নবজাতক ও ৬ জন প্রসূতি মারা গেছে।
এই অপচিকিৎসার জন্য দায়ী মূলত পল্লি চিকিৎসকেরা। তাদের বেশিরভাগই চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী অর্জন করেননি। অনেকে সাধারণ এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনাও করেননি। তারা তিন থেকে সাত দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের ‘ডাক্তার’ পরিচয় দেন।
পল্লি চিকিৎসকরা প্রসূতিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সামান্য ব্যথা দেখলেই অক্সিটোসিন ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই ইনজেকশন নির্দিষ্ট নিয়মে চিকিৎসকদের নির্দেশনায় ব্যবহার করতে হয়। অনিরাপদভাবে ব্যবহার করলে প্রসূতির জরায়ু ফেটে যেতে পারে, প্রস্রাবের থলি ফেটে যেতে পারে, এমনকি প্রতিবন্ধী নবজাতকের জন্ম বা প্রসূতি চিরতরে গর্ভধারণের ক্ষমতা হারাতে পারেন।
অক্সিটোসিন ইনজেকশনের অপব্যবহার রোধে সরকারি ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত। জেলা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে পল্লি চিকিৎসকদের হাতে ইনজেকশন বিক্রির বিধান নেই বা এই ইনজেকশন পল্লি চিকিৎসকের হাতে পৌঁছানোর বিষয়ে তাদের কোনো তথ্য নেই।
কুড়িগ্রাম জেলার ৪৫০টি দ্বীপচরের মধ্যে মাত্র ৫০টিতে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, সেগুলোও অনিয়মিত। তাই প্রসূতিদের প্রায়ই পল্লি চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হয়।
এই পরিস্থিতিতে প্রসূতিদের নিরাপদ ডেলিভারির জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রশিক্ষিত দাইদের কাছে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারকেও পল্লি চিকিৎসকদের অক্সিটোসিন ইনজেকশন ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা করার জন্যে আহ্বান জানানো হয়েছে।