দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট শুরু হলো আজ থেকে। এই টুর্নামেন্টের আসল নাম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ হলেও এটাকে ‘দক্ষিণ এশিয়ান নারী বিশ্বকাপ’ও বলা যেতে পারে।
২০১০ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের ছয়টি ফাইনালে উঠেও প্রতিবার নেপাল হয়েছে রানার্স-আপ। ভারতই পেয়েছে সবগুলো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। তবে ২০২২ সালে এসে ভারতের সেই অপরাজেয় রথের চাকায় কাদা লেগেছে। ফাইনালে উঠতেই পারেনি। সেবারই স্বাগতিক নেপালকে তাদের মাঠেই ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। তখন সারা দেশ উৎসবে মেতে উঠেছিল। বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত ছাদখোলা বাসে বিজয়ী মেয়েদের সেই শোভাযাত্রার স্মৃতি এখনও মনে রয়েছে।
রাতারাতির হিরোনি হওয়া সেই মেয়েরা আজ আবার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত। কাঠমান্ডুতে চলছে ‘নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’। ‘এ’ গ্রুপে আছে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটান।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় দশরথ রঙ্গশলায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হচ্ছে।
২০১২ সালে এই আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে একবারই সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। এবারের পাকিস্তান দলের অধিনায়ক যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা মারিয়া খান। তিনি বলেছেন, ‘এটি তো আমাদের বিশ্বকাপ’।
এই ‘বিশ্বকাপে’ বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২০ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ হচ্ছে পাকিস্তান। গতবারের সাফে পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশ তাই প্রথম ম্যাচ নিয়ে আশাবাদীই থাকতে পারে।
তবে গ্রুপের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটা হবে আগুনের পরীক্ষা। ২৩ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে এই ম্যাচটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ। গতবার গ্রুপ পর্বে ৩-০ গোলে জিতলেও এবার হয়তো এত সহজ হবে না। কারণ, বাংলাদেশের সেই দলটি এখন ভেঙে গেছে।
এই ম্যাচে জয় জরুরি স্বাগতিক নেপালকে এড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য।
যাওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার আফসোসের কথা বলেছিলেন সাবিনা। তবে কাঠমান্ডুতে গিয়ে আশার কথাও বলেছেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা বেশ ভালো হয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সব সময় মেয়েদের বাড়তি উজ্জীবিত করে’।
ভারত কোচ সান্তোস কশ্যপের কথা শুনেও উজ্জীবিত হতে পারেন সাবিনারা। তাঁর কথায়, বাংলাদেশ দারুণ একটি দল।
মাঠে তা আবারও প্রমাণের পালা সাবিনাদের।