**বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা**
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকৌশলীর অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমের নামে তা রাখার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে।
প্রকৌশলী মো. শাহাদত আলী এবং তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমকে আসামি করে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
দুদকের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম বুধবার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় কোহিনুর বেগম ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সহায়তা করে জানা আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ৫২ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন এবং অর্জিত সম্পদ বৈধ করার অভিযোগ করা হয়েছে।
শাহাদত আলী বর্তমানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। দম্পতি দু’জন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাওরা উত্তরপাড়ার বাসিন্দা।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়, গত ১৭ মে দুদক কোহিনুর বেগমকে তার এবং তার নির্ভরশীলদের নামে অর্জিত সম্পদ, দায়দেনা ও আয়ের উৎস দাখিলের জন্য নোটিশ পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ১০ জুলাই দুদকের টাঙ্গাইল কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন।
দাখিলকৃত বিবরণী অনুযায়ী, কোহিনুর বেগমের ২ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকার স্থাবর, ১৮ লাখ ৮২ হাজার ৫১২ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ২ কোটি ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৫১২ টাকার সম্পদ রয়েছে।
যাচাই-বাছাই করে দুদক কর্তৃপক্ষ দেখতে পায়, কোহিনুর বেগমের দেওয়া সম্পদের ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকার জন্য কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই।
দুদকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, শাহাদত আলী অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করেছেন। সেই অবৈধ সম্পদ বৈধ করার জন্য তিনি উৎসবিহীন সম্পদ তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমের নামে রেখেছেন।
এ ছাড়া শাহাদত আলী ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৭৫ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য তার সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন। তিনি জানা আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ১৫১ টাকার সম্পদের মালিকানা অসাধু উপায়ে অর্জন করেছেন বলে দুদকের যাচাইকালে বেরিয়ে এসেছে।
দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর এ আলম মামলাটি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।