নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৪৬ রানে অলআউট হল ভারত
যারা পেস বোলিং ভালোবাসেন, তাদের জন্য বেঙ্গালুরুর সকালটা খুবই আনন্দদায়ক ছিল। নিউজিল্যান্ডের তিন পেসার টিম সাউদি, ম্যাট হেনরি আর কাইল জেমিসনরা এমন এক কার্যকরি প্রদর্শন করেছেন যা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই দেখা যায়। তারা ভারতের বিশ্বখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপকে এমনভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে যে সারা সকালে তাদের বোলিং দেখে তৃপ্ত হওয়া গেছে।
বেঙ্গালুরু টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারত মাত্র ৪৬ রানে অলআউট হয়ে গেছে। এটি টেস্ট ক্রিকেটে তাদের তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। ভারতের মাটিতে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর এবং এশিয়ার মাটিতেও সর্বনিম্ন স্কোর। এই টেস্টের পরে ফের নিউজিল্যান্ড সামনে অলআউট হয়ে গেছে, এবার তাদের স্কোরটা ৩২৪ রান।
ভারতের টেস্টে সর্বনিম্ন স্কোর হল ৩৬। এই রেকর্ডটি দুই বছর আগে অ্যাডিলেডে তৈরি হয়েছিল। দেশের মাটিতে ভারতের সর্বনিম্ন স্কোরটি ছিল ৭৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১৯৮৭ সালে এই স্কোর হয়েছিল।
ভারতের ইনিংসে পাঁচজন ব্যাটসম্যান শূন্য রানে আউট হয়েছেন। এই ঘটনাটি সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই মোহালিতে। সেই ম্যাচে ভারত ৮৩ রানে অলআউট হয়েছিল। ব্যাটসম্যানদের এক ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ডে বাংলাদেশই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তিনবার এই রেকর্ডটি গড়েছে।
কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো শূন্য রানে ফেরার পরেও সর্বোচ্চ স্কোর করার রেকর্ডও বাংলাদেশেরই। তাদের দল ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৬৫ রান করেছিল।
এত সংখ্যার আলোচনায় হয়তো নিউজিল্যান্ডের বোলারদের সাফল্য একটু কমে যেতে পারে। কিন্তু পুরো সকালটাকে সেরা করল তাদের তিন পেসারের পেস, সুইং আর বাউন্স। সাম্প্রতিক সময়ের টেস্টগুলোতে স্পিনারদের কীর্তিকে বেশি দেখা গেছে।
সবশেষে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলেছিল, সেখানে নাঈম হাসান ও যশপ্রীত বুমরাহরা ভালো করলেও মূল চরিত্র ছিলেন স্পিনাররা। তার আগে শ্রীলঙ্কা সিরিজে তো স্পিনারদের কাছেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। আর সম্প্রতি মুলতানে সাজিদ খান সাতটি উইকেট নিয়েছেন।
স্পিনারদের প্রভাবের পর পেসারদের সাফল্য দেখার জন্য অনেকেরই চোখ ক্ষুধার্ত হয়ে উঠতে পারে। হয়তো সেই ক্ষুধা মেটানোর জন্যই ভুঁইফোড় বোলিং করেছে নিউজিল্যান্ডের পেসাররা।
নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা মাঠে নামার জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন। কারণ ভারতের আবহাওয়ার সঙ্গে তাদের খুব একটা ভালো সম্পর্ক নেই। গত মাসে গ্রেটার নয়ডায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টের একটি বলও হয়নি বাজে আবহাওয়ার কারণে। এরপর আবার নিউজিল্যান্ড ভারতে এসেছে, সেখানেও বৃষ্টি হয়েছে। এই টেস্টের প্রথম দিনও বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। অর্থাৎ টানা ছয় দিন নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ভারতে বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তারপরও মাঠে নেমেই এমন প্রভাবশালী পারফরম্যান্স।
আট বছর পর তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে বিরাট কোহলির শূন্য রান করা এটাও নিশ্চয়ই ভারতের চাওয়া ছিল যেন এই প্রদর্শনী দেখা যায়। এজন্য তারা বৃষ্টির কারণে ঢাকার উইকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ের মতো অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামও টসে জিতলে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নেবেন বলেছিলেন। ভাগ্য ভালো।
এ ক্ষেত্রে রোহিতদের ভাগ্যের দোষারোপ করা যাবে না। রোহিত স্বাভাবিকভাবেই শুরু করতে চেয়েছিলেন। সপ্তম ওভারে তিনি বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন। ৭ ওভার অপেক্ষা করেছেন বড় শট খেলার জন্য। খুব একটা খারাপ বল ছিল না। সরফরাজ অফ স্টাম্পের বাইরে একটা বল পেয়ে ড্রাইভ করেছিলেন। কিন্তু মিড অফে কনওয়ে দারুণ একটা ক্যাচ নিয়ে রোহিতকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
ভারতের ইনিংসে সর্বোচ্চ ২০ রান করেছেন ঋষভ পন্ত। তবে ৪৯টি বল খেলে তিনি এই রান করেছেন। এর থেকেই বোঝা যায় যে তিনিও স্বাভাবিক ব্যাটিং করেননি। বলা উচিত, পরিস্থিতি এবং বোলিংয়ের কারণে তিনি তা করতে পারেননি। এই ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারিটিও পন্তই মেরেছিলেন। সেটি ইনিংসের ৭৭তম বলে এসেছিল। ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান যশস্বী জয়সওয়ালের। তিনি ১৩ রান করেছেন। বাকি ৯ জন এক অঙ্কের ঘরেই অলআউট হয়েছেন।
হেনরি পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন। কুলদীপ যাদবকে আউট করে মাত্র ২৬ টেস্টে ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন হেনরি। রুর্ক জেমিসনকে নিয়েছেন চারটি উইকেট। বাকি একটি উইকেটটি নিয়েছেন সাউদি।