আওয়ামী গডফাদার কাদের মির্জার কথায় চলত সব, অসহায় ছিল প্রশাসন
প্রায় সাড়ে চার বছর আগে “আওয়ামী গডফাদার কাদের মির্জার কথায় চলত সব, অসহায় ছিল প্রশাসন” শিরোনামের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ নিম্নে প্রদত্ত বিশদ বিবরণের উপর ভিত্তি করে বাংলা ভাষায় পুনর্লিখিত করা হয়েছে।
– মূল নিবন্ধ শিরোনাম: আওয়ামী গডফাদার কাদের মির্জার কথায় চলত সব, অসহায় ছিল প্রশাসন
– মূল নিবন্ধ বিষয়বস্তু:
“‘…সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীতে তিন-চারটা আসন ছাড়া বাকি আসনে আমাদের এমপিরা দরজা খুঁজে পাবে না পালানোর জন্য। এটাই হলো সত্য কথা। সত্য কথা বলতে হবে। আমি সাহস করে সত্য কথা বলছি।’
এ রকম বক্তব্য দিয়ে পৌনে চার বছর আগে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের মির্জা। তাঁর এমন বক্তব্য ‘সত্য বচন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
আবদুল কাদের মির্জার বড় পরিচয় তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার সাবেক এই মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
বড় ভাই ওবায়দুল কাদের প্রভাবশালী মন্ত্রী হওয়ার কারণে টানা সাড়ে ১৫ বছর দল ক্ষমতায় থাকাকালে কাদের মির্জার কাছে জিম্মি ছিল গোটা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানুষ। ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারির পৌরসভা নির্বাচনে কাদের মির্জা টানা তৃতীয়বারের মতো বসুরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নিজ দলের প্রতিপক্ষ এবং বিরোধী দলের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছিলেন কাদের মির্জা। তাঁর বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলেরই নেতা-কর্মীরা। এমনকি ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী খেটে খাওয়া মানুষ, সাহায্য চাইতে আসা অসহায় ব্যক্তিও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং গালমন্দ করা ছিল কাদের মির্জার নিয়মিত অভ্যাস। গঠন করেন হেলমেট বাহিনী ও হাতুড়ি বাহিনী।
ঠিকাদারি কাজে চাঁদাবাজি, সরকারি বিভিন্ন নিয়োগে তদবির–বাণিজ্য, শিশুপার্কের নামে কারখানা দখল, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিপণিবিতান ভাঙচুর, বিপণিবিতান বন্ধ করে দেওয়া, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ অসংখ্য অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পৌনে চার বছর আগে দলের এমপিরা পালানোর দরজা খুঁজে পাবেন না বলে উপহাস করা কাদের মির্জা সরকার পতনের পর নিজেই পালিয়েছেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে বড় ভাই ওবায়দুল কাদের মতো কাদের মির্জারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চাঁদা ছাড়া কাজ করা যেত না
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভায় যেকোনো উন্নয়নকাজ করতে গেলে কাদের মির্জাকে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা দিতে হতো ঠিকাদারদের। আবার এসব কাজের বেশির ভাগ পেতেন তাঁর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারেরা।
গত ১৫ বছরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভায় মোট উন্নয়নকাজ হয়েছে প্রায় ৫৭৩ কোটি টাকার। এর মধ্যে পৌরসভায় উন্নয়নকাজ হয়েছে প্রায় ৯৭ কোটি টাকার। আর বাকি উন্নয়নকাজ উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে। প্রতিটি কাজে ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে কমিশন নিতেন কাদের মির্জা। সেই হিসাবে কমিশনের টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি।
বেশির ভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা। পছন্দের ঠিকাদারের বাইরে কাজ পেয়ে বিপাকে পড়া এক ঠিকাদার নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর আবদুল জলিল। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠান জলিল ট্রেডার্স কোম্পানীগঞ্জে ৪০ লাখ টাকায় সড়ক সংস্কারের কাজ পায়। কাজ পাওয়ার খবর পৌঁছে যায় কাদের মির্জার কাছে। ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দাবি করেন ৫ শতাংশ কমিশন।
আবদুল জলিল প্রথম আলোকে বলেন, কাদের মির্জার এক লোক তাঁকে পৌরসভা কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে ৫ শতাংশ কমিশন চান কাদের মির্জা। বাধ্য হয়ে ২ লাখ টাকা দিতে হয় কাদের মির্জাকে।
বসুরহাট পৌরসভার অধীনে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাস্তবায়িত হয় রাজাপুর স্কুল রোড বাইলেন রাস্তাসংলগ্ন পুকুরে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ এবং রাজাপুর স্কুল সড়কে প্যালাসাইটিং প্রকল্প। সরেজমিনে দেখা যায়