
৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একটি
ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হচ্ছে এবারের ভোটগ্রহণ। দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের
অংশগ্রহণে এই নির্বাচন নিয়ে নানা দিক থেকে রয়েছে উদ্বেগ। বিরোধী দলগুলো
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে অভিযোগ করছে। প্রচার-প্রচারণায় সরব আছে
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
এ অবস্থায় কলকাতাভিত্তিক বাংলা
পত্রিকা আনন্দবাজার’কে সাক্ষাৎকার দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার
ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। ধানমণ্ডির সুধাসদনে নিজ রাজনৈতিক
কার্যালয় থেকে এ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের উপর আমার বিপুল আস্থা। মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। জনগণের ভোটেই আমরা নির্বাচিত হব।’
এতটা নিশ্চিত কীভাবে হচ্ছেন? জবাবে তিনি
বলেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ৬০০ স্কুল পোড়ানোর কথা বাংলাদেশের মানুষ
ভুলে যায়নি। মুছে যায়নি প্রিসাইডিং অফিসার-সহ অজস্র নাগরিককে হত্যার
স্মৃতি। রাস্তা কেটে মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর
দাবি, সেই সময়ে জনগণই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ভোটও দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই জনগণ
ফের তাঁকেই ভোট দেবেন বলে বিশ্বাস শেখ হাসিনার।
একই সঙ্গে শেখ হাসিনা মনে করিয়ে দিলেন,
নির্বাচনের পর বাংলাদেশে একের পর এক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সাধারণ
মানুষ সে সব ভোলেননি। আর ভোলেননি বলেই ওই সব ঘটনা যে রাজনৈতিক দল ঘটিয়েছিল,
তারা জনসমর্থনহীন হয়ে পড়েছে। আর সেই জোরের জায়গা থেকেই ফের সরকার গঠনের
ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামী লীগ।

কিন্তু, নির্বাচনের আগে বিরোধীরা তো তাঁর
দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে। কথাটা বলতেই যেন একটু বিরক্ত হলেন
প্রধানমন্ত্রী। বললেন, ‘নালিশ করার পাশাপাশি বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং মিথ্যা
কথা বলতে ওরা ভীষণ পারদর্শী।’ শেখ হাসিনার পাল্টা দাবি, নির্বাচনে
বিরোধীদের হয়ে যারা প্রার্থী হতে চেয়েছেন, তাদেরই ওরা নমিনেশন দিয়েছে।
কিন্তু, দলীয় প্রতীক পেয়েছেন একজন। এরপর নিজেদের মধ্যেই সঙ্ঘাত শুরু হয়েছে
বলে প্রধানমন্ত্রীর দাবি। তাঁর কথায়, ‘দলের পুরনো বা জিতবেন এমন নেতাদের
নমিনেশন দেয়নি ওরা। যে কারণে বঞ্চিতদের কাছে ওদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে।’
কয়েকজন নেতা-কর্মীকে খুনের ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে শেষ হওয়ার পর সে বিষয়ে তদন্ত হবে বলেও জানালেন হাসিনা।
বাংলাদেশের যুব সম্প্রদায় আওয়ামী লীগ
সম্পর্কে খুবই উৎসাহী বলে মনে করেন হাসিনা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে মানুষের মন
থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাই মুছে ফেলা হয়েছিল। এখনকার নতুন প্রজন্মের
মধ্যে সত্যকে জানার একটা আগ্রহ রয়েছে। ইন্টারনেটে খুঁজলেই একাত্তরের অনেক
তথ্য এখন জানা যায়। ফলে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার বিষয়টি এখন অনেক সহজ
হয়ে গিয়েছে। শেখ হাসিনার কথায়, ‘এর জেরে আওয়ামী লীগের প্রতি যুব
সম্প্রদায়ের মতটাই পাল্টে গিয়েছে।’
নির্বাচন উপলক্ষে হাসিনা দেশের বিভিন্ন
জায়গায় সফর করেছেন। সেই সফরে তিনি মানুষের কাছ থেকে ভালই সাড়া পেয়েছেন বলে
দাবি করেন হাসিনা। তাঁর কথায়, ‘মানুষের মধ্যে সেই ভালবাসাটা দেখতে পেলাম
জানেন! তারা অন্তর থেকে চাইছেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসুক। জনগণ এটা
জানেন, আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই তাদের ভাগ্য পরিবর্তিত হবে।’
মহিলাদের থেকে তো বটেই, আওয়ামী লীগ তরুণ
সমাজের কাছ থেকেও অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছে বলে দাবি করেন হাসিনা। তিনি বলেন,
‘এবারের নির্বাচনটা আগের মতো অত চ্যালেঞ্জিং নয়। বৈরিতার পরিবেশও নেই। বরং
আমাদের স্বপক্ষে একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর আগের নির্বাচনগুলোয় একটা বিভেদ
লক্ষ্য করতাম। এবার কিন্তু একচেটিয়াভাবে সকলের সমর্থনটা আমাদের সঙ্গে
রয়েছে। সেটা টেরও পাচ্ছি।’
পাকিস্তান প্রসঙ্গেও এ দিন মুখ খুলেছেন
হাসিনা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে কিছু পাকিস্তানপ্রেমী মানুষ আছেন।
‘যুদ্ধাপরাধীদের মন পড়ে আছে পাকিস্তানে,’—এমন মন্তব্যও করলেন তিনি।
পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন, তাঁরা সতর্ক আছেন। কারও সঙ্গে বৈরিতা করতে না
চাইলেও, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কাউকে যে কোনোভাবেই নাক গলাতে দেবে না
বাংলাদেশ, সে কথাও এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যে আসামিরা
লন্ডনে বসে রয়েছে, তাদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগের মনোভাব এ দিন স্পষ্ট হয়েছে
শেখ হাসিনার কথায়। তাঁর মতে, ওইসব আসামিরা সব সময় বিদেশে বসে দেশের ভিতর
একটা অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে চায়। অস্ত্রপাচার, চোরা কারবার এবং দুর্নীতির
সঙ্গে যুক্ত ওই সব মানুষের অঢেল টাকা বলে হাসিনার অভিযোগ। তাঁর দাবি,
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাতে যারা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, সেই সব ব্যবসায়ীরাও ওই
দলকে টাকাপয়সা দেয়।
তাঁর কথায়, ‘ক্ষমতায় ছিল যখন, দেশের
মানুষের কল্যাণে কাজ না করলেও নিজেদেও আখের ওরা গুছিয়ে নিয়েছে। ওই টাকা তো
ওরা এখন ব্যয় করে দেশের ভেতরে অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে।’ পাশাপাশি তাঁর
প্রতিশ্রুতি, ব্রিটেনের সঙ্গে কথা বলে ওই আসামিদের দেশে ফেরত এনে রায়
কার্যকর করা হবে।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম কীভাবে
ধানের শীষ প্রতীক পেল তা নিয়েও এ দিন প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর প্রশ্ন,
যাদের নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করল, তাদের কী ভাবে নমিনেশন দেওয়া হয়?
তিনি বলেন, ‘জামায়াত তো গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে
জড়িত ছিল। মেয়েদেরকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া থেকে
ঘরবাড়ি দখল করেছিল। ওদের নমিনেশন দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষ শঙ্কিত!’

এ দিন কামাল হোসেনের রাজনৈতিক অবস্থান
নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাসিনা। কামাল হোসেনকে দেশের সংবিধান রচয়িতা
বলা হয়। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে চলে গিয়ে নিজে দল করেন। ধানমণ্ডি থেকে
দাঁড়িয়েছিলেন একবার। ওই নির্বাচনে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। হাসিনার
কথায়, ‘সেই তিনি কিনা গেলেন জামাত-বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে!’
এরপরই হাসিমুখে জানালেন, ‘আমি অবাক হইনি। কারণ কী জানেন? তাঁর শ্বশুরবাড়ি পাকিস্তানে। ছেলেদের একটু শ্বশুরবাড়ির টানটা বেশি থাকে।’
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024