
৫২ আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
আমেরিকা এবারো মিথ্যা অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন
করে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল
(সোমবার) নতুন নিষেধাজ্ঞার নির্দেশে সই করেছেন। এবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর দপ্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার নির্দেশে সই
করার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এটি হবে ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয় কঠিন
নিষেধাজ্ঞা। তিনি বলেন, ইরান সম্প্রতি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করায় এর
প্রতিশোধ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল। একই সঙ্গে ইরানের ব্যাপারে পরস্পর
বিরোধী বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেছেন, আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না বরং
দেশটি সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে উপনীত হতে চাই।
ধারণা করা হচ্ছে, এর আগেও
ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায়, তেহরানের পক্ষ থেকে
মার্কিন আলোচনার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান হওয়ায় এবং সর্বশেষ মার্কিন
ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য হোয়াইট হাউজের
কর্মকর্তারা নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড.
হাসান রুহানি বলেছেন, ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক
ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা হাস্যকর। এর মাধ্যমে ট্রাম্প
নিলর্জ্জতার পরিচয় দিয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ও
তার দপ্তরের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট
রুহানি বলেন, আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী কেবল ইরানের নেতা নন বরং তিনি
গোটা বিশ্বের ইসলামি বিপ্লবপ্রেমী ও মুসলমানের নেতা। তিনি বলেন, হোয়াইট
হাউস বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিন এক
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর দপ্তরের
ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছাড়াও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র
আট শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, হরমুজগান প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা,
মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা এবং সিরিয়ায় ইরানি সামরিক উপস্থিতির প্রতিশোধ
হিসেবে আইআরজিসি'র আরো পাঁচ কমান্ডারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান
অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করায় মার্কিনীরা এতোটাই বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে
যে তারা ইরানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অনর্থক নানান কথাবার্তা বলছে। বিশেষ
করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতটাই হতাশ ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন যে,
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দফতরের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্পের ধারণা এভাবে হয়তো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত ১২দফা দাবি মেনে
নিতে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ
নেতা বলেছেন, এভাবে চাপ সৃষ্টি করে ওয়াশিংটনের কোনো লাভ হবে না।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024