৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে তার পরিণাম ভালো হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিএনপি। আজ ঢাকা মহানগর বিএনপির এক যৌথ সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস এই সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, পত্রিকায় দেখলাম- দেশনেত্রীকে কারারুদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে।
এই আওয়ামী সরকারের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু নেই, মানবতাবোধ বলে কিছু নেই। আমার ধারণা বিষয়টা খুব একটা সহজ হবে না। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দেশনেত্রীকে গ্রেপ্তারের পরিণাম খুব ভালো হবে না। দেশের মানুষ এটাকে সহজভাবে মেনে নেবে না। আগামী ৩০শে মে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৩৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর বিএনপি নয়া পল্টনের ভাসানী ভবনে এ যৌথসভার আয়োজন করে। উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী ২রা জুন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সেদিন অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।
মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের উচিত দেশের জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা। দমন-নিপীড়ন করে পৃথিবীর কোনো শাসক ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, আওয়ামী লীগ সরকারও পারবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি মনে করে থাকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে দেশে শান্তি আসবে তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদিনই আদালতে হাজিরা দিতে হয়। বিএনপি নেতারা বাইরে থাকুক আওয়ামী লীগ এটা পছন্দ করে না। ওয়ান-ইলেভেনের আগে ও পরের মতো এখন আবারও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, কোনো একটি স্বার্থান্বেষী মহল সেই ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্র তৈরি করছে। যার একটি ছায়া মহানগর বিএনপিতেও পড়তে দেখা যাচ্ছে।
তাই লেগে থাকার জন্য নয়, যারা দলের প্রতি আন্তরিক তারাই আগামী দিনের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একটি কথা মনে রাখবেন, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমি খুব খেয়াল করছি, পত্র-পত্রিকায় বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে লেখা হচ্ছে। এখানে-ওখানে গোপন বৈঠকের কথা লেখা হচ্ছে। চেষ্টা চলছে বিএনপিকে একটা দলাদলি বা গ্রুপিংয়ের মধ্যে ফেলার। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাচ্ছেন প্রতিদিন এই খবরটা গণমাধ্যমে আসছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের সিভি (জীবন বৃত্তান্ত) দেয়া বন্ধ হয়নি। কিছু হওয়ার জন্য, পদের জন্য তদবির থেমে নেই। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর রায় বলেন, যাকে ছাড়া দল চলবে না তার বিপদের জন্য কিছু করি না। আর আমরা পদের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছি, মানত করছি। মাজারে মাজারে যাই, জ্যান্ত মাজারেও যাই মৃত মাজারেও যাই। তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত শুনলাম না অমুক নেতার বাসায় সংকট মোকাবিলার জন্য বৈঠক হয়েছে
। খালেদা জিয়ার কিছু হলে কী করা হবে সেই আলোচনা নেই। কাকে উপরে নেবে, কাকে কী দেবে সেই আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, ৩০শে মে পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির চেতনাকে শাণিত করতে হবে। আগামী দিনে জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপরে যদি কোনো আঘাত আসে এই শাণিত অস্ত্রের আঘাতে তা যাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার অনেক পরিকল্পনা করতে পারে, জেলে নেবে। আসলে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় না। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা যদি পথ সৃষ্টি করে দিই, এটা আমাদের সঠিক কাজ হবে না। তিনি বলেন, রাজনীতিতে কিছু করব না, এটা ভেবে বসে থাকলে চলবে না। কিছু ঘটার আগে করতে হবে। বিনা আন্দোলনে বিনা সংগ্রামে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। অন্যায়কে প্রতিরোধ করা যায় না। আমরা যদি মনে করি সরকার চক্রান্ত করছে তাহলে আগাম প্রস্তুতি থাকা ভালো। ভাষা আন্দোলনসহ অতীতে সফল আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের কোনো পদ-পদবি ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আন্দোলন করতে হলে পদ-পদবির দরকার হয় না।
ওয়ান- ইলেভেন মোকাবিলা করতে স্থায়ী কমিটি খুঁঁজে পাওয়া যায়নি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমপি-মন্ত্রী কাউকে পাওয়া যায়নি। যাদের পাওয়া গেছে তারা ছিল জেলখানায়। বাকি বিদেশে যে যেভাবে পেরেছেন জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তখন কিন্তু মোকাবিলা করেছে তারাই যাদের কোনো পদ ছিল না, তৃণমূলের কর্মীরা। সুতরাং আপনারা প্রস্তুত হোন। মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে যৌথসভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বক্তব্য দেন। যৌথসভায় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার ও ইউনুস মৃধাসহ ঢাকা মগহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা যৌথসভায় অংশ নেন। যৌথসভা থেকে দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৩০শে মে ও ১লা জুন রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মহানগর বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বরাবরের মতোই খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024