
৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই
কারাবন্দীর মধ্যে মারামারিতে অমিত মুহুরি (৩২) নামে এক শীর্ষসন্ত্রাসী নিহত
হয়েছে। রিপন নামে এক বন্দীর ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ নাশির আহমেদ বলেন, চট্টগ্রাম
কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩২ নম্বর সেলে অমিত মুহুরিসহ তিনজন বন্দী ছিলেন। রাত
১০টার দিকে আরেক বন্দী রিপনের সঙ্গে অমিত মুহুরির কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে রিপন ইট দিয়ে অমিতের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় অমিতকে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার দিকে
অমিত মারা যান।
অমিতের বাবা অরুণ
মুহুরি বলেন, ‘রাত ১১ টার দিকে কারাগার থেকে আমাকে ফোনে জানানো হয়; অমিতকে
আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপর আমি এখানে এসেছি। আমার ছেলেকে
কারা খুন করেছে, আমি এর তদন্ত এবং বিচার চাই।’
চট্টগ্রাম নগরীর
নন্দনকাননে বন্ধুকে নৃশংসভাবে খুনের পর ড্রামে ভরে এসিড দিয়ে লাশ গলিয়ে
দিঘীতে ফেলার মামলায় ২০১৭ সালের ২ আগস্ট অমিত মুহুরিকে (৩০) গ্রেফতার করে
পুলিশ। তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী অমিত
মুহুরি যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসেবে
পরিচিত। ২০১৩ সালে সিআরবিতে রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুনের মামলার আসামি
অমিত মুহুরিকে ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর নগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।
পরে অমিত জামিনে বেরিয়ে আসে।
২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল
পহেলা বৈশাখের দিন নগরীর ডিসি হিলে পুলিশের উপর হামলা চালায় অমিত মুহুরি ও
তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা। এরপর ২৮ এপ্রিল রাতে ঝাউতলায় স্থানীয়
কিশোর–তরুণদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর এক পর্যায়ে তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
সেখানে অমিত মুহুরির অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার চিত্র ভিডিও ফুটেজে পেয়ে ২৫
মে তাকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। কিন্তু ২৬ জুন অমিত জামিনে
বেরিয়ে আসে। এরপর বন্ধুকে খুন করে জেলে যায়।
নিহত অমিত মুহুরি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষসন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024