**চীনা ঋণে জাহাজ কেনায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অপচয়**
সরকারের আগের দফায় চীন থেকে কেনা চারটি জাহাজের মূল্য নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে এসব জাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অপচয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনা জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সিএমসিকে প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রায় এক কোটি ডলার বেশি দিতে হচ্ছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্রে জানা গেছে। চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠান দুটি করে ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সরবরাহ করবে।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বিশেষ আগ্রহেই এসব জাহাজ কেনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে জাহাজ কেনার পেছনে কমিশন-বাণিজ্যের আশঙ্কা রয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকারের দাম পড়ছে সাত কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতিটি জাহাজের ক্ষমতা ১ লাখ ১৪ হাজার ডেডওয়েট টন। অন্যদিকে, প্রতিটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজের দাম চার কোটি চার লাখ ডলার। এসব জাহাজের প্রতিটির ক্ষমতা ৮০ হাজার ডেডওয়েট টন। সব মিলিয়ে, চারটি জাহাজের জন্য ব্যয় হবে ২৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। সম্পূর্ণ অর্থ সরবরাহ করছে চীন সরকার। জাহাজগুলো ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, সিএমসির জাহাজের দাম বেশি ধরা হয়েছে বলে চীনের বিভিন্ন জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তৈরি জাহাজের দাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে। ২০২৩ সালে সেই দেশে কার্যাদেশ নেওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ৮০-৮২ হাজার ডেডওয়েট টন ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজের দাম তিন কোটি ২০ লাখ থেকে তিন কোটি ৪০ লাখ ডলারের মধ্যে। এই দাম বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ দেওয়া জাহাজগুলোর চেয়ে প্রায় এক কোটি ডলার কম। আর এক লাখ ১৪ হাজার ডেডওয়েট টন ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকারের দাম অন্যান্য কোম্পানিগুলো ছয় কোটি ১০ লাখ থেকে ছয় কোটি ৩০ লাখ ডলারের মধ্যে নিয়েছে। অর্থাৎ, এই জাহাজেও প্রতিটিতে এক কোটি ডলার বেশি দাম ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সব মিলিয়ে চারটি জাহাজ কিনতে দেশের মুদ্রায় খরচ পড়বে দুই হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। এই অর্থ পাঁচটি কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।
ইআরডি ও বিএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, চারটি জাহাজ কেনায় মোট চার কোটি ডলার বেশি মূল্য দেওয়া হয়েছে। যা বর্তমান বাজারমূল্যে দেশের প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা (প্রতি ডলারের মূল্য ১২০ টাকা ধরে)।
অতিরিক্ত মূল্যে জাহাজ কেনায় অর্থের অপচয় হচ্ছে। চীনসহ যেকোনো উৎসের ঋণ জনগণকেই ফেরত দিতে হবে। এজন্য অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত। - ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধ করা হলেই সিএমসি জাহাজ নির্মাণ শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেছেন, অতিরিক্ত দামে জাহাজ কেনায় অর্থের অপচয় হচ্ছে। চীনসহ যেকোনো উৎসের ঋণ জনগণকেই ফেরত দিতে হবে। এজন্য অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত। এজন্য জাহাজ কেনায় সর্বোচ্চ মান ও সর্বনিম্ন দর - দুটোকেই প্রাধান্য দেওয়ার মৌলিক নীতি থাকা দরকার। চীন থেকে চারটি জাহাজ কেনায় এসব শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তা না হলে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আসবে না। জনগণের অর্থের অপচয় হবে। তাঁর মতে, যাঁদের জন্য অর্থের অপচয় হচ্ছে, তাঁদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরুর বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইআরডি তা শিগগিরই জানিয়ে দেবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগের দরে জাহাজ পাওয়া যাবে না।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের সঙ্গে এই ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু করে বিএসসি। তখন ৮০ হাজার ডেডওয়েট টন ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি মাদার বাল্ক জাহাজ এবং এক লাখ ১৪ হাজার ডেডওয়েট টন ক্ষম
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024