
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জরিপ অনুযায়ী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে লড়াইটা সমানে সমান। উভয়পক্ষই অঙ্গরাজ্যগুলো নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে, ট্রাম্প যা বলছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে তিনি আবার জয়ী হলে তার নীতি আগেরবারের চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে।
"ট্রাম্প আসছেন, ট্রাম্প আসছেন" এমন গুঞ্জন চারদিকে। রিপাবলিকান সমর্থকরা খুশি হলেও বাকিরা আতঙ্কিত। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যারা তাকে "শাস্তি" দিয়েছে তাদের প্রত্যেককে শাসন করবেন। তালিকায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির নাম ছাড়াও সেই সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্যরা আছেন যারা তার অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস ও এনবিসি টেলিভিশনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছেন।
একটি ভয়ের বিষয় হলো, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তিনি যেকোনো প্রতিবাদের প্রতিবাদ দমন করতে জাতীয় রক্ষী বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করবেন। প্রায় ১.৫ কোটি অবৈধ অভিবাসীকে জোর করে দেশ থেকে বহিষ্কার করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সীমান্ত এলাকায় বিশাল "কনসেনট্রেশন ক্যাম্প" নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প মাদক পাচার বন্ধে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মন্ত্রিসভার কিছু দায়িত্বশীল সদস্যরা তখন তাকে বাধা দেননি। তবে, দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হলে ট্রাম্প সেই "বড়দের" সরিয়ে আরও অনুগতদের নিয়োগ করবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক জেনারেলরা এই সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের সাবেক চিফ অব স্টাফ জেনারেল জন কেলি ও সাবেক যৌথ বাহিনীর প্রধান মার্ক মিলি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ট্রাম্পের আচরণ নিঃসন্দেহে একজন ফ্যাসিস্টের মতো।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হলে হোয়াইট হাউসে আর কোনো "বয়স্ক" থাকবে না। যদি সিনেট ও কংগ্রেস রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় "চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স" সীমিত হয়ে যাবে। এ ছাড়া, সুপ্রিম কোর্টটি এখন রিপাবলিকানদের দখলে, যা ট্রাম্পের জন্য সোনায় সোহাগা।
কনজারভেটিভ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ট্রাম্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নীতি নির্ধারণ করেছে, যার নাম "প্রজেক্ট ২০২৫"। ট্রাম্প নিজে এই প্রকল্পের সাথে জড়িত নন, এমনকি তা পড়েও দেখেননি বলে দাবি করেন। তবে, যারা এই নীতি তৈরি করেছেন তারা প্রায় সবাই ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সদস্য ছিলেন। তাদের অনেকে এখন ট্রাম্পের প্রচার দলে কাজ করছেন।
যদি ট্রাম্প দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন, তাদের এই নীতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে। তাদের পরিকল্পনা হলো ধনীদের জন্য কর হ্রাস, আমদানি শুল্কে বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ প্রবিধান শিথিলকরণ। ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরেই ট্রাম্প দেশের ধনী ১ শতাংশের জন্য কর হ্রাস করেছিলেন, যার ফলে জাতীয় ঋণ প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এবার তিনি চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ থেকে ৬০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের কথা বলেছেন। তিনি যুক্তি দেখাচ্ছেন, এটি বিলিয়ন ডলার আয় করবে।
কিন্তু, বাস্তবতা হলো, আমদানি শুল্ক রপ্তানিকারক দেশের চেয়ে আমদানিকারক দেশের ভোক্তাদের বেশি আঘাত করে। মার্কিন অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতির ফলে আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাবে। প্রতিটি ভোক্তাকে 2,600 ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে।
ট্রাম্পের স্লোগানটি "আমেরিকাকে আবার মহান করো" হওয়ার পরিবর্তে "আমেরিকাকে আবার গরিব করো" হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিবাসন নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রজেক্ট ২০২৫ এর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের চোখে যথেষ্ট "অনুগত" নন এমন হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তাকে অপসারণ করার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্প দাবি করেন, সরকারের ভেতরে আরেকটি সরকার আছে, যাকে তিনি "ডিপ স্টেট" বলেছেন, যার সদস্যরা ইচ্ছাকৃতভাবে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধা দিতে পারে। প্রথমবারে সবার ক্ষেত্রেই তিনি তা করতে পারেননি।
সামাজিক ও নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসবে যদি ট্রাম্প জয়ী হন। তিনি বলেছেন, তিনি নারীর গর্ভপাতের অধিকারকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের হাতে ছেড়ে দিতে চান। তবে, বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করেন, যদি কংগ্রেস তার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে তিনি গর্ভপাতের বিষয়ে একটি জাতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। শুধু তাই নয়, কারা গর্ভপাত করিয়েছে তার হিসাবও রাখা হবে। তাদের শনাক্ত করার পর, তারা উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করবে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে শিক্ষা দফতর বাতিল
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024