
৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
বাংলাদেশের রাজধানীসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই
চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ক্রমবর্ধমান রোগী সামাল দিতে হিমশিম
খাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলো। হাসপাতালে শয্যা সংকট, অতিরিক্ত
রোগীর তুলনায় ও চিকিৎসক ও সেবাদানকারীদের অপর্যাপ্ততা এবং ব্লাডব্যাংকে
রক্তের সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তুলেছে। এর মধ্যে গত
দু’দিনে রাজধানীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন নারী চিকিৎসকসহ তিন
জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি হিসাব মতে, এ
বছর জানুয়ারি থেকে এ যাবত প্রায় সাড়ে ন’হাজার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুতে
আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেল
কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ২৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
অভিভাবকরা বলছেন,
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে বেড পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্যার কথা
স্বীকার করে বেসরকারি সেন্ট্রাল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. একেএম মোজাহার
হোসেন বলেছেন, ঈদে ট্রেনের আগাম বুকিং দেবার মতো রোগীর স্বজনেরা
হাসপাতালে এসে লাইনধরে আগাম বেড বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি সোহরাওয়ার্দী
হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেছেন, রোগিরা ছাড়াও তাদের
পরিচর্যাকারী স্বজন, চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরাও এখন এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে
রয়েছেন।
সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ নির্দেশ দিয়েছে, আক্রান্ত রোগীদের ফেরত দেয়া যাবে না; চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ৪০ শয্যাবিশিষ্ট ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা
সেল চালু করা হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের নিচতলায়
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবায় এ সেল চালু করা হয়। ডেঙ্গু
চিকিৎসাসেবা সেলে আজ সাতজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
তবে ডেঙ্গু রোগের
জীবানুবাহী এডিস মশা নিধনে আদালতের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেবার পরও
দায়িত্বশীলমহল বলছেন- এ ভরা সৌসুমে এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধে সিটি
কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বেড়েছে রক্তের চাহিদাও
ডেঙ্গু হলে অতিরিক্ত
রক্ত ও প্লাটিলেটের প্রয়োজন হয়। এক ব্যাগ প্লাটিলেটের জন্য চার ব্যাগ
রক্তের প্রয়োজন। তাই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে রক্তের
চাহিদা। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে রক্তের চাহিদা মেটানোর ছাড়াও অনেককেই
ব্লাড ব্যাংকগুলোর দ্বারস্থ হচ্ছেন। ব্লাড ব্যাংকগুলো বলছে, ডেঙ্গু রোগীর
সংখ্যা বাড়ায় আগের চেয়ে রক্তের চাহিদা বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। চাহিদা মেটাতে
রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
চিকিৎসকরা বলছেন, একজন
স্বাভাবিক মানুষের রক্তে প্লাটিলেটের হার প্রতি ১০০ মিলিলিটারে দেড় লাখ
থেকে চার লাখ। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীর রক্তের প্লাটিলেট কাউন্ট এক
লাখের নিচে চলে আসে। প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নেমে এলে কোনো আঘাত ছাড়াই
রক্তক্ষরণ হতে পারে, যেমন- নাক বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, মলের সঙ্গে
রক্ত আসা ইত্যাদি।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024