৫২ রাজনীতি ডেস্ক।।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হলে অন্য যেকোনো চুক্তি অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
'সরকার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছেন' অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে করা কোনো চুক্তি দেশের মানুষ মেনে নেবে না। আমরা দাবি আদায়ে প্রচেষ্টা চালাতে পারছি না এ জন্য যে, বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছেন, রাষ্ট্র চালাচ্ছেন তারা আগেই দুর্বল ও নতজানু হয়ে আছেন। কারণ তারা বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।"
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, "ভারত সফরকে ফলপ্রসূ করতে হলে বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে প্রধান সমস্যা পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিস্তা হচ্ছে সবার আগে। মানুষ আশা করেছিল, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে তিস্তাসহ অন্য সব অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। তিস্তা চুক্তি না হলে অন্য যেকোনো চুক্তি অর্থহীন হবে। আর স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি মানুষ মেনে নেবে না।"
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র' এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রের' সহযোগিতায় ও মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল, মঙ্গলবার মাগুরায় দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভিত্তিহীন, অসত্য, বানোয়াট। এ কথাগুলো বলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কী প্রমাণ করতে চাইছেন? বাংলাদেশের নির্বাচন কি ভারতের 'র', আমেরিকার সহযোগিতা নিয়ে হয়?’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই এ ধরনের ভিত্তিহীন অসত্য কথা বলে থাকেন। এ কথাগুলোর একেবারেই ভিত্তি নেই, অসত্য-বানোয়াট।’
২০০১ সালে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে বিএনপি জয়লাভ করেছিল—দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) যে ক্ষমতা জবরদখল করে বসে আছে, তাহলে তারাও কি ভারতের 'র' আর আমেরিকার সাহায্য নিয়ে বসে আছে?’ তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য করার আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাবা উচিত ছিল যে এ ধরনের মন্তব্য করলে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়। দেশের ক্ষতি হয়। রাজনীতির ক্ষতি হয়। প্রধানমন্ত্রী লাগামহীন উক্তি করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট চাওয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রীয় টাকায় হেলিকপ্টারে করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, অন্য দলগুলোকে ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বিএনপিকে জনসভা করারও অনুমতি দেয়া হয় না। এখানে প্রমাণ হয়, দেশে গণতন্ত্র নেই। প্রধানমন্ত্রী গায়ের জোরে প্রচার চালাচ্ছেন। দলগুলোকে সভা-সমিতি, স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে দেয়ার দাবি জানান তিনি।
জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সুত্র-পার্সটুডে।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024