নারসিংদী রেলস্টেশন যাত্রী ও ট্রেনের হৈচৈতে ভরপুর। বুধবার বিকেলে হঠাৎ সবার চোখে মুখে অবাক হওয়া দেখা গেল। কারণ এমন একজন নারীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হল, যিনি মাত্র কিছুক্ষণ আগে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে একটি ট্রেনের নিচে শুয়েছিলেন।
গতকাল বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে নারসিংদী রেলস্টেশনের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। ওই নারীর নাম লতিফা বেগম (৭০)। তিনি নারসিংদী শহরের কাউরিয়াপাড়ার নতুন লঞ্চঘাটের কাছে জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী। রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল বিকেলে নারসিংদী রেলস্টেশনে কর্ণফুলী মেইল ট্রেনটি প্রবেশ করছিল। প্রথম নম্বর লাইনে দাঁড়ানোর আগ মুহূর্তে ওই নারী রেললাইনের উপর শুয়ে পড়েন। তখন লোকোমাস্টার (চালক) হঠাৎ হার্ড ব্রেক কষেন। এর ফলে ওই নারী দ্বিতীয় বগির নিচে থাকা অবস্থায় ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পুরোপুরি থেমে যায়।
শত শত যাত্রী এতে বিপদে পড়েন। ওই নারীকে উদ্ধার করতে লোকোমাস্টার হার্ড ব্রেক কষতে সক্ষম হওয়ায় তিনি শরীরের কোনো অংশে আঘাত পাননি। তাকে অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে। লতিফা বেগম জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস ও বার্ধক্যজনিত অন্যান্য রোগে তিনি ভুগছেন। তার স্বামীও অসুস্থ। দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে আর ছেলে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। ছেলের মাসিক বেতন আট হাজার টাকার মধ্যে অর্ধেকই তাদের দুজনের চিকিৎসা ও ওষুধের পেছনে খরচ হয়ে যায়। এই কারণেই সংসার চালাতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে নারসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানিয়েছেন, ঘটনার তিন ঘণ্টা পর ট্রেনটির ইঞ্জিন সচল হলে আবার যাত্রা শুরু করে।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024