৫২ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক।।
ক্যামেরা দেখেও তাদের মধ্যে কোনো বিকার নেই। শিশুরা খুব একটা তাকাচ্ছেও না। এই শিশুরা তাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত দেখছে মৃত্যু, মৃতপ্রায় এবং মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা মানুষদের। আর কীইবা তাদের অবাক করবে? ক্ষুধা তাদের কাবু করে ফেলেছে।
একেবারেই কিছুই হয়তো পাবে না জেনেও তারা লাইনে অপেক্ষা করে সামান্য রেশনের জন্য।
আমার যে সহকর্মী বিবিসির জন্য ছবি তুলছেন, এই শিশুরা তাকে এবং তার ক্যামেরা নিয়মিত দেখে অভ্যস্ত।
শিশুদের ক্ষুধা, তাদের মৃত্যু, মৃত্যুর পর আলতোভাবে তাদের শরীর, কখনোবা শরীরের কিছু অংশ সাদা কাফনে জড়িয়ে দেয়া- এই সবই দেখে চলেছেন আমার সহকর্মী। তার নিরাপত্তার জন্য আমি তার নাম প্রকাশ করছি না
যদি মৃত শিশুর নাম জানা থাকে তাহলে কাফনের ওপর তাদের নাম লিখে দেয়া হয়, অনেকেই থেকে যায় অজ্ঞাত।
উনিশ মাসের এই যুদ্ধে স্থানীয় এই ক্যামেরাম্যান হাসপাতালের আঙ্গিনায় অসংখ্য বেঁচে আসা মানুষের কান্না শুনেছেন।
শারীরিকভাবে দূরে থাকলেও তার মনে সবসময়ই তারা থাকেন। কারণ তিনিও তাদের মতই দমবদ্ধ করা এক নরকে আটকা পড়েছেন।
আজ সকালেই তিনি চেষ্টা করেছে সিওয়ার আশৌর নামের পাঁচ মাস বয়সী একটি মেয়েকে খুঁজতে। তিনি আমাকে লিখেছিলেন, খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে মেয়েটির কান্না তার হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছিলো। চলতি মাসের শুরুতে ফুটেজ নেয়ার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
মেয়ে শিশুটির ওজন ছিলো মাত্র দুই কেজির একটু বেশি। অথচ পাঁচ মাসের একটি বাচ্চার ওজন হওয়া উচিত ৬ কেজি কিংবা তারও বেশি।
তিনি শুনেছেন মেয়েটিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং সে বাড়িতে আছে। সেটিই তাকে তাদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে নিয়ে এসেছে।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024