
৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১এর বাণিজ্যিক এ সম্প্রচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (বুধবার) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
এসময় শেখ হাসিনা বলেন, 'আজ আমি খুবই আনন্দিত যে দেশের সব টিভি চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। আশাকরি ইলেকট্রনিক সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর আরও অনেক বাধা দূর হবে। পরনির্ভরশীলতা থাকবে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলাম।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সহজে বার্তা পৌঁছাবে। আমরা আশপাশের দেশগুলোর কাছেও অফার করেছি। তারাও চাইলে ভাড়া নিতে পারবে এর ট্রান্সপন্ডার। এখান থেকেও আমরা অর্থ উপার্জন করতে পারব।'
অনুষ্ঠানে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠনের (অ্যাটকো) নেতাদের মিথ্যা সংবাদ প্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী, কারণ এটি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। 'আপনারা যদি আমাদের (সরকার) বিরুদ্ধে কথা বলেন বা আমাদের সমালোচনা করেন তবে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে মিথ্যা অপপ্রচার যেন না হয় দয়া করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। মিথ্যা অপপ্রচারে দেশের মানুষের মধ্যে সন্দেহ হয়। এমন কিছু করবেন না যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।’
ফ্রান্সের সহযোগিতায় প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট (বিএস-১) ২০১৮ সালের ১২ মে ফ্লোরিডা থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। গত বছরের নভেম্বর মাসে এর নিয়ন্ত্রণ কর্তৃত্ব বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) –এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিটিভির চারটি চ্যানেল বাংলাদেশি স্যাটেলাইটটি ব্যবহার করে ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছে। এ ছাড়াও আরো ছয়টি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই টিভি চ্যানেলগুলো হচ্ছে, সময় টিভি, যমুনা টিভি, দীপ্ত টিভি, বিজয় বাংলা, বাংলা টিভি ও মাই টিভি।
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর
ওদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতেরর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ৩ থেকে ৬ অক্টোবর ভারতে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন। ভারত ও বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের পর এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার প্রথম নয়া দিল্লি সফর।
প্রধানমন্ত্রী আসন্ন নয়া দিল্লি সফরে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সংস্কৃতি বিনিময়, কারিগরি সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে ১৫টির বেশি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন।
এ সফরকালে দুই দেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মান নির্ধারক সংস্থা, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এছাড়া ঊপকূলীয় নজরদারি, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে ভারতীয় পণ্য ওঠা-নামার প্রক্রিয়া, ত্রাণ কার্যক্রম, ঢাকায় ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে চুক্তি হতে পারে।
ভারত ও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে শতাধিক চুক্তি সই করেছে, যার ৬৮টিই হয়েছে গত তিন বছরে। কয়েক দশকের স্থল সীমান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে, সমুদ্র সীমা নিয়েও বিরোধ কেটে গেছে দুই দেশের। তবে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
এ বারের সফরে ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি ৫ অক্টোবর নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। এসময় শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলেও জানা গেছে।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024