
৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
ভোটারদের মনে উদ্বেগ, বিরোধী প্রার্থী ও
নেতা-কর্মীদের জন্য ভীতিকর পরিবেশ আর নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মধ্যে
আশংকা-অনিশ্চয়তার মাঝে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচন।
ক্ষমতাসীন
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এবারের নির্বাচনে তাঁদের দলের পক্ষে সত্তরের
মতো গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে এই
নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি দাবি করেছে
জনগণ ভোট দেবার সুযোগ পেলে এবার ভোট বিপ্লব ঘটবে। ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি
হবে।
এবারের সংসদ ও মন্ত্রী
পরিষদ বহাল রেখেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দলকে
নিয়ে এবার একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলেও সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত
করা হয়নি বলে বিরোধী সকলপক্ষই অভিযোগ করেছে। তাছাড়া আদালত, পুলিশ ও
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সর্বত্রই সরব আলোচনা চলছে।
এবারের নির্বাচনে উচ্চ
আদালতের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের ফলে বিরোধী দলের ২৩ জন প্রার্থিতা
হারিয়েছেন এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীরও (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীসহ)
প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তাছাড়া, হাইকোর্টে মামলা করে প্রার্থিতা ফিরে
পাওয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের আপিল করার নজিরও এবারই তৈরি হয়েছে। এবারই
সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীকে (১৭ জন) মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর গ্রেপ্তার হতে
হয়েছে।
এদিকে, তফসিল ঘোষণা
এবং নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের নতুন
রেকর্ড হয়েছে এবং এই অভিযান এখনো চলছে। গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, ইতোমধ্যে
গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েক হাজার।
নির্বাচনী প্রচারে
নেমে হামলার শিকার প্রার্থীর সংখ্যাও এবারে সর্বোচ্চ। তাঁদের মধ্যে নারী
প্রার্থীরাও রয়েছেন। এসব প্রার্থীরা প্রধানত ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের
আক্রমণের শিকার হয়েছেন। দু’এক স্থানে প্রার্থীদের ওপর রক্তাক্ত হামলার জন্য
পুলিশকে দায়ী করা হয়েছে্।
বিরোধী নেতা-কর্মীদের
যেমন গ্রেপ্তার ও বাড়ি ছাড়া করে ফেলা হয়েছে, তেমনি এবার ভোটারদের বাড়ি
গিয়ে সরাসরি বলা হচ্ছে, নৌকার পক্ষে ভোট দিলেই কেবল কেন্দ্রে যাওয়া যাবে।
এরকম ভীতিকর পরিবেশের
কথা জানিয়েছেন দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উজেলার অধিবাসী বিএনপি
সমর্থক গোলাম মোস্তফা রেডিও তেহরাকে বলেছেন, সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের
কোনো পরিবেশ নেই। বিরোধী নেতা-কর্মীরা সরকারি দল ও পুলিশের আত্যাচারের
মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে জাতীয়
ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ভোটের দিন যাতে বিরোধী
নেতা-কর্মী বা সমর্থকরা মাঠে থাকতে না পারে সেজন্যই এ রকম পদক্ষেপ নিয়েছে
পুলিশ।
তবে, বিএনপি মহাসচীব মির্জা ফখরুল আজকেও গণমাধ্যমকে বলেছেন, এরপরেও তারা নির্বাচনী মাঠ ছাড়বেন না।
ওদিকে, আওয়ামী লীগের
সাধারণ সম্পাদক আজ সাংবাদিকদের বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি
নির্বাচনে নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। এর বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের
সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
এদিকে, নির্বাচনে
সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সারা দেশে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ বিজিবি ,
কোস্টগার্ড ও আনসার মিলিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রায় সাত লক্ষ সদস্য
মোতায়েন করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর প্রধান
জেনারেল আজিজ আহমেদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে
বলেছেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিন, আমরা আপনাদের আশেপাশে থাকব। তাছাড়া,
নির্বাচনের পরেও যেন কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটাই আমাদের মূল
লক্ষ্য। আজ দুপুরে আজিমপুর এলাকার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত
সাংবাদিকদের মাধ্যমে ভোটারদের অভয় দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তবে, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার
গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভয়ের পরিবেশ যে আছে, এ নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই।
মানুষের মধ্যে এমন একটি ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে সরকার আবার ক্ষমতায় আসছে।
হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনার মধ্য দিয়ে এমন একটি পরিবেশ
সৃষ্টি হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির
যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ যথার্থ। সারা
দেশে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন করতে চায়। বিদেশি
পর্যবেক্ষকেরা যেন এসব বিষয় তুলে ধরতে না পারেন, সে জন্য তাদের অনেককে
অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয় নি।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024