**শহরে সর্বশেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার কেনাকাটা জমে উঠল**
সিলেট শহরে দুর্গাপূজার কেনাকাটা সর্বশেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। মনের মতো পোশাক কিনতে দোকানে দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। কয়েক দিন ধরে বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ভিড় ছিল উপচে পড়ার মতো। বুধবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দুদের বৃহত্তম উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। এদিন কেনাকাটার হুজুগ চলবে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
সিলেট শহর ঘুরে দেখা গেছে, আগেরবারের মতো এবারও বাজারে ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, স্যান্ডেল, শার্ট-প্যান্ট; মেয়েদের নানা ধরনের থ্রি পিস, শাড়ি আর বাচ্চাদের নানা রকম পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। শহরের বেশির ভাগ বাজারের দোকানগুলো দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে।
ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, জেলরোড, বারুতখানা, লামাবাজার ও মহাজনপট্টি এলাকার দোকান ও বাজারগুলোতে ভিড় সবচেয়ে বেশি। মেয়েদের নানা ধরনের থ্রি পিস এক হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে শাড়িও। তবে বাজারে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় দামি শাড়িও কেউ কেউ কিনছেন। ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা ৮০০ টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে নানা মানের শার্ট-প্যান্টও।
বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব পিযুষ সূত্রধর বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগে সিলেট নগরে পোশাক এতটা ছাড়ে বিক্রি হতে দেখা যায়নি। তবে এবার প্রায় প্রতিটি দোকানই দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগাম ঘোষণা দিয়ে ছাড়ে পোশাক বিক্রি করছে। এতে কেনাকাটার হুজুগ পড়েছে। এক সেট পোশাক কেনার পরিকল্পনা যাদের ছিল, তারা ছাড়ের সুযোগ নিয়ে একাধিক সেট কিনছেন।
কুমারপাড়া এলাকার দুই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুর্গাপূজার বাজার কেমন হবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা ছিল। তাই অনেকে ভয়ে ভয়ে নতুন পোশাক এনে সাজিয়ে রেখেছিলেন। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা দূর করে দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। পূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, বিক্রিও বাড়ছে।
সোমবার বিকেলে নয়াসড়ক এলাকায় দাড়িয়াপাড়া এলাকার কলেজছাত্রী মনি রায়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, "দুটি আনরেডি থ্রি পিস কিনেছি। দরজির কাছে দিয়েছি। আজ দুজন বান্ধবীকে নিয়ে এসেছি একই রঙের জামা কিনতে। নবমীর দিন একই রঙের পোশাক পরে আমরা মণ্ডপ ঘুরে বেড়াব।" দোকানগুলোতে পোশাকে ছাড় থাকায় গত বছরের চেয়ে এবার তুলনামূলক কম দামে পোশাক পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিলেট নগরের লামাবাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি মণিপুরি পোশাকের দোকান আছে। নারী ও তরুণীরা সেখানে মণিপুরি শাড়ি ও থ্রি পিস কিনতে আসছেন বেশি। সিলেট মণিপুরি শাড়িঘরের বিক্রয়কর্মী সুইটি রানী তালুকদার বলেন, ঐতিহ্যের কারণেই অনেক মণিপুরি মণিপুরি পোশাক পরতে পছন্দ করেন। পূজার সময় অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে মণিপুরি পোশাক। তাদের দোকানে ১১০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকায় মণিপুরি শাড়ি আর ৫৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় মণিপুরি থ্রি পিস বিক্রি হচ্ছে।
পোশাকের পাশাপাশি জুতা, গয়না ও প্রসাধনীও বিক্রি হচ্ছে, বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা-বিক্রেতা। থান কাপড়ও কিনছেন অনেকে। দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করার পাশাপাশি অনলাইনেও কেনাকাটা করছেন কয়েকজন ক্রেতা।
সেনপাড়া এলাকার গৃহিণী সুপ্রভা রানী দাশ বলেন, "বাজারের ভিড় আর নগরের যানজট এড়াতে তাদের অনেকেই অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। কর্মব্যস্ততার কারণেও অনেকে অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। গত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কেনাকাটার হার বেড়েছে। তবে আমি বাজার ঘুরে ঘুরেই ছেলেমেয়ে আর পরিবারের সদস্যদের পছন্দের কাপড় কিনছি।"
সিলেট ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান মন্তব্য করেছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পূজার বাজার অনেকটাই জমজমাট হয়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত কেনাকাটা এমনভাবেই চলবে বলে তাদের ধারণা।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024