
জীবনসঙ্গীরে অনাদর করা হচ্ছে কিনা জানবেন কীভাবে?
মানুষের জীবনে উত্থান-পতন হবেই। তবে কয়েকটি বিষয়ের দিকে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য রাখলে বুঝবেন আপনার সঙ্গী আপনাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে আর চান না। স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে তারা সুখী নয়। তবে তারা চাইলেও চাইলেও না চাইলেও তাদের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাবে।
সময় না দেওয়া:
সকালে অফিস যাওয়ার সময় কিংবা রাতে বাসায় ফিরে যে কথা হয়, সেটাও সাধারণত সংসারের বিষয় নিয়েই হয়ে থাকে। প্রতিদিন দেখা হয় না বা একসঙ্গে মানসম্পন্ন সময় আর কাটানো হয় না। এমন পরিস্থিতি অনেক দম্পতির মধ্যে দেখা যায়। একসঙ্গে বসে তাড়াহুড়ো করে চায়ের সিপ দিতে দিতে বা ছবি দেখতে বা গল্প করতে আপনি চাইলেও আরেকজন সেটা চান না।
যদি প্রতিদিন এমন হতে থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। এটার অর্থ হতে পারে আপনার সঙ্গী আপনাকে আর আগের মতো পছন্দ করছেন না। বাইরের কাজের অজুহাত যত বাড়বে, আপনার সন্দেহ ততোই সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি জোর করে তার সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন, লক্ষ্য করুন যে, সে আপনার কথা মন দিয়ে শুনছে কিনা। অনেক সময় বসে থাকলেও আসলে সে হয়তো মন দিয়ে আপনার কথা শুনছে না। যদি সংসার জীবনে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়, তাহলে সেটা নিয়ে আপনাদের দুজনেরই খোলাখুলি কথা বলা উচিত।
শারীরিক সম্পর্ক:
বিয়ের পর একে অপরের প্রতি মানসিক আগ্রহ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক থাকাও প্রয়োজনীয়। যদি কোনো একজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্কের প্রতি অনীহা দেখা যায়, তাহলে বুঝে নেবেন যে, সে আপনার প্রতি আকর্ষণ বোধ করছে না।
হাসি বন্ধ:
শেষ কবে আপনারা একসঙ্গে আনন্দে হেসেছিলেন, মনে পড়ে? প্রতিদিন একসঙ্গে বসে হাসি-ঠাট্টা করার কথা বলা হচ্ছে না। সামান্য বিষয়গুলোতে হেসে কথা বলা বা কোনো মজার কথায় হঠাৎ জোরে হেসে ওঠা ইঙ্গিত করে যে, আপনার সঙ্গী আপনার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
যদি আপনার মজার কথাতেও আপনার সঙ্গী ভ্রু কুঁচকে তাকান, তাহলে বুঝবেন যে, সে বিরক্ত হচ্ছে।
দোষারোপ:
কোনো কিছুতেই আপনার জীবনসঙ্গী আপনার ওপর দোষ চাপান। যদি এই ঘটনা বারবার ঘটে থাকে, তাহলে বুঝবেন যে, সে আপনাকে আর ভালোবাসছে না। এমনকি আপনি না থাকলেও কোনো ঘটনার জন্য আপনাকে দোষ দেওয়া হতে পারে। ভালোবাসা থাকলে সাধারণত সব সময় চেষ্টা থাকে যেন সঙ্গীর ওপর দোষ না যায়।
অন্যথায় সে আপনাকে তার অস্থিরতা, মন খারাপ এমনকি রাগের জন্যও দায়ী করবে। এছাড়াও, সে তার নেতিবাচক আচরণের জন্য সেগুলোকে অজুহাত হিসেবে দেখাবে।
চুপ থাকা:
চুপ থাকা আপনাদের মধ্যে যোগাযোগের ভাষা হয়ে দাঁড়াবে। কথা বলার বিষয়ও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটাকে লাল পতাকা হিসেবেই বিবেচনা করুন।
যেকোনো সম্পর্কে যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার জীবনসঙ্গী যদি কথা বলতে না চান বা কথা এড়িয়ে যান, তাহলে বুঝবেন যে, তারা আর নিজেদেরকে সুখী দম্পতি হিসেবে ভাবছেন না।
সম্পাদক : মোঃ আব্দুল আজিজ
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : হাউজ নং - ৬, রোড নং - ১০, সেক্টর - ১০, উত্তরা ঢাকা।
Copyright © www.nch52.com all rights reserved.- 2024