বন্যপ্রাণী আইন লঙ্গন ও মব সৃষ্টি করে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রাচীর ভেঙ্গে সংরক্ষিত বনভুমির ভেতরে ময়লার ভাগাড় তথা ডাম্পিং স্টেশন নির্মানের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে ।
সরকারী তথ্য মতে ৫ হাজার ২২ হেক্টর সংরক্ষিত বনভুমি নিয়ে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিদিন ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থী ও পর্যটকবৃন্দ এখানে আসেন অবকাশ যাপনে।
জাতীয় উদ্যানের কোর জোনের ভেতরে ময়লার ডাম্পিং স্টেশন নির্মিত হলে পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয়, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা রয়েছে।
ঢাকা বন্যপ্রানী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীনে পরিচালিত এই জাতীয় উদ্যানটি একটি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে ও ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এখানে নিয়মিত আসেন তাদের গবেষণার কাজে।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের অভয়ারণ্য স্পর্শকাতর এই ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানটি বন আইনে সংরক্ষিত বনভুমি (কোর জোন) হওয়ার পরও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ১৯২৭ সনের বন আইন (যা ২০০০ সনে সংশোধিত) এর ২৬(১) (ক), (খ) ও (গ), ৬ এর (গ) এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর ১৪এর (১) উপ-ধারা (গ) ও (ঘ) এবং ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ অধ্যাদেশ নং-০৯, ২০২৬ মোতাবেক বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ এর ১৯ এর (ক), (ঘ), (ঠ) ধারা লঙ্গন করে সম্পুর্ন বে-আইনি ভাবে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে মব সৃষ্টি করে গত ১৩ এপ্রিল ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রাচীর ভেঙ্গে রাস্তা নির্মান করেন। এবং জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমিতে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগাড় তথা ডাম্পিং স্টেশন নির্মানের কাজ করছেন। এই ঘটনায় বন বিভাগ ব্যবস্থ্যা নিতে গেলে মবের শিকার হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকা এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম.কে.এম ইকবাল হোছাইন বলেন, আমাদের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের কোর অঞ্চল বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে ঘেরা আছে এর ভেতরে ব্যাক্তি মালিকানাধীন কিছু জমি আছে যেগুলো একোয়ারের জন্য প্রস্তাবনা রাখা আছে এবং ওই জমিগুলো ডিমার্গেশন করা নেই এই অবস্থায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গত ১১ এপ্রিল জাতীয় উদ্যানের কোর জোনের ভেতরে কাজ শুরু করে পরে আমরা বাধা দিয়ে চলে আসার পর তারা অগোচরে সেড নির্মান করেন। পরের দিন ১২ এপ্রিল বন বিভাগের লোকজন সেই সেড অপসারণ করে। পরে গত ১৩ এপ্রিল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দুই শতাধিক লোকজন নিয়ে মব সৃষ্টি করে ভেকু দিয়ে কোর জোনের বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে রাস্তা তৈরি করে বনের সীমানা নষ্ট করে বনের ভিতরে আগুন জালিয়ে ও বজ্য ফেলেন যেগুলো বন আইনের সু-স্পস্ট লঙ্গন ও অপরাধ। তারা সেখানে গভীর নলকুপ স্থাপন করে ময়লার ডাম্পিং স্টেশন নির্মান করতেছে যা পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটাবে। আমাদের পক্ষথেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিইও মহোদয়ের সাথে কথা বলা হয়েছে তারা বলেছেন এই কাজ বন্ধ হবে না কাজ চলবে। আমরা আমাদের পক্ষথেকে এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনগত পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
এই বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সিইও বলেন এই জায়গাটি কোর জোন না এটা ব্যাক্তিমালিকানাধীন জায়গা এবং দেওয়াল ভাঙ্গার বিষয়ে বলেন দেওয়াল আগে থেকেই ভাঙ্গা ছিলো আমরা দেওয়াল ভাঙ্গিনি। তাদের যদি এখানে সমস্যা হয় তাহলে তারা অন্য যায়গায় জমির ব্যবস্থা করে দিক তাহলে আমরা এখান থেকে সরে যাবো। আইন ভঙ্গের বিষয়ে বলেন আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা দেখতে হবে। মব সৃষ্টি করে বন বিভাগকে বন রক্ষায় কাজ করতে দিচ্ছেননা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমি যেটা করছি এটা ও সরকারী কাজ এবং ওনারা যেটা করছেন সেটাও সরকারী কাজ আমি ওনাদের বলেছি যেহেতু দুটোই সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তাই দুই বিভাগের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী মহদোয়ের পর্যায়ে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা যেতে পারে। আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।