৩৬ হাজার চিকিৎসক নিবন্ধন নবায়ন করেননি
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) জানিয়েছে, দেশে প্রায় ৩৬ হাজার চিকিৎসক নিজেদের নিবন্ধন নবায়ন না করেই চিকিৎসা পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএমডিসির কাছে কতজন ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে নিবন্ধন করেছেন, তার সঠিক তথ্য নেই। আবার কতজন কোনো নিবন্ধন ছাড়াই চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন, তাও বিএমডিসি জানে না।
বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিজয়নগরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
বিএমডিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৮ জন, দন্ত চিকিৎসক রয়েছেন ১৪ হাজার ৩২৩ জন এবং চিকিৎসা সহকারী ২৯ হাজার ১৮ জন। তবে চিকিৎসকদের মধ্যে ৩৬ হাজার চিকিৎসকের নিবন্ধন নবায়ন করা নেই। তাদের বেশির ভাগই জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ভুয়া চিকিৎসক দুই ধরনের। কেউ কেউ ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন নিয়েছেন। বিএমডিসি তাদের শনাক্ত করতে পারবে। তবে বিএমডিসি থেকে কোনো নিবন্ধন না নিয়েই কেউ কেউ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে মানুষের চিকিৎসা করছেন। তাদের শনাক্ত করা বিএমডিসির পক্ষে কঠিন। তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাতে পারি। সম্প্রতি কুমিল্লার একটি ঘটনায় আমরা এটা করেছি।’
বিএমডিসির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসকদের নিবন্ধন দেওয়া এবং চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া। সাংবাদিকরা সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে বলেন, কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মান খারাপ। তারা প্রতিবছর ছলচাতুরী করে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিকদের সংগঠন এমবিবিএসে ভর্তির স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বাতিল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিএমডিসির ২০১০ সাল থেকে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, শুনানি ও নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। এই সময়ের মধ্যে বিএমডিসির কাছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ১৪৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭১টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, ২৭টি অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং ৪৯টি অভিযোগ অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন।
নিষ্পত্তি হওয়া ৭১টি অভিযোগের মধ্যে ১৭টিতে বিএমডিসি ১৭ জন চিকিৎসককে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম আলোর এক সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় একজন চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিল করেছে বিএমডিসি। এ ছাড়া বাদী অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন ২০টি ঘটনায়। ২০টি ঘটনায় চিকিৎসককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নয়জন চিকিৎসককে সতর্কতা নোটিশ এবং পাঁচজনকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে।