গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুরে লাগেজ ও জুটের বস্তায় পাওয়া খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত নারী ডলি আক্তার (৩২)। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার কাঠবওলা পাহাড়পাবইজান এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার মেয়ে। গাজীপুরের বাগেরবাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসের সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ভবানীপুর মেম্বারবাড়ী বাজারের মধ্যবর্তী একটি ফাঁকা জায়গায় ব্রিজের নিচের সরু খাল থেকে একটি লাগেজ উদ্ধার করে পুলিশ। লাগেজের ভেতর পাওয়া যায় নারীর মরদেহের একটি অংশ। পরে পাশের পানিতে ভাসতে থাকা একটি জুটের বস্তা উদ্ধার করা হলে এর ভেতর থেকে মরদেহের বাকি অংশ ও মাথা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরদিন শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের খবর ও ভিডিও দেখে স্বজনরা গাজীপুরে এসে মরদেহটি ডলি আক্তারের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডলি মেম্বারবাড়ী এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর ছুটি নিয়ে ময়মনসিংহে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। পরদিন তার স্বজন ও সাবেক স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়। এরপর থেকেই তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিহতের সাবেক স্বামী রাশেদ জানান, ৮ সেপ্টেম্বর সকালে ডলি ফোন করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে বলেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বলেও জানান। পরে রাতে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোনে পাওয়া যায়নি।
নিহতের ভাই সোহেল জানান, পারিবারিক নানা বিরোধের পর কয়েক মাস আগে ডলিকে তালাক দেন রাশেদ। তাদের সাত বছরের একটি মেয়ে রয়েছে, বর্তমানে মেয়েটি বাবার কাছে আছে। তবে ডলির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ পারিবারিক বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমেছে গাজীপুর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ইতোমধ্যে ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই গাজীপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বা উদ্দেশ্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে তারা। এ বিষয়ে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।
নিহত ডলি আক্তারকে কেন হত্যা করা হলো, কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং মরদেহ খণ্ডিত করে লাগেজ ও বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দেওয়ার নেপথ্যে কী ছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর পিবিআইয়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।