বিসিবির শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাথুরুসিংহে
বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন, বিসিবির সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার পর তিনি আজ বাংলাদেশ ত্যাগ করছেন। তবে আজ সন্ধ্যেয় পাঠানো এক বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কার সাবেক এই কোচ বিসিবির অভিযোগণা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং তাঁকে বরখাস্ত করার পদ্ধতিতে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে, বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে হাথুরুসিংহে এবং দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবালের চুক্তি বাতিল করেছে। মূলত বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন এক খেলোয়াড়কে লাঞ্ছিত করা এবং অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার অভিযোগে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিসিবির অভিযোগ প্রসঙ্গে হাথুরুসিংহে তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, “এই অসংগতিপূর্ণ বক্তব্যের জবাব না দিয়ে আমি পারি না। আমি বিশ্বাস করি, এর ব্যাখ্যা দেওয়াটা জরুরি। এই অভিযোগগুলো ঘিরে আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে ঘটনাগুলো স্পষ্ট করা এবং আমার বক্তব্য উপস্থাপন করা অপরিহার্য।”
কথিত যে ঘটনাটি ঘটেছে সেই ডাগআউট বা ড্রেসিংরুম বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে সব সময় নজরদারিতে থাকে বলে উল্লেখ করে হাথুরুসিংহে বলেন, “আর যদি সেখানে কিছু ঘটেই থাকে, আমি অভিযোগকারী বা কোনো সাক্ষীর সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলারও সুযোগ পাইনি।”
এদিকে, বিসিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগকারীর পরিচয় তাঁরা গোপন রাখবেন। কারণ, অভিযোগকারী যদি চায়, তাহলে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “ঘটনাটা যদি এতটাই গুরুতর হয়ে থাকে, তাহলে সেই খেলোয়াড়টির ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে দলের ম্যানেজার বা কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ না করাটা বিস্ময়কর। যদি অভিযোগ করা হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে তখন কেন প্রশ্ন করা হয়নি অথবা তখন আমার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়নি। এটাই প্রশ্নের উদ্রেক করে যে এত মাস পর কেন কোনো ব্যক্তি ইউটিউবে এটা নিয়ে সরব হবে।”
মিরপুরে ‘সাকিবিয়ানদের’ স্লোগানছুটি নেওয়ার বিষয়ে হাথুরুসিংহে বিবৃতিতে বলেন, “যখনই ব্যক্তিগত ছুটি নিয়েছি, সেটা আমি প্রধান নির্বাহী বা ক্রিকেট অপারেশনসের চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমেই নিয়েছি। বিসিবি আমাকে কখনোই বলেনি যে তারা আমার ছুটির বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট। বরং আমি যখনই ছুটি চেয়েছি, বিসিবি তা অনুমোদন দিয়েছে। আমি তাদের অনুমোদন ছাড়া কখনোই ছুটিতে যাইনি।”
হাথুরুসিংহের বরখাস্তের পর ইংরেজ কোচ স্টিভ রোডসকে বাংলাদেশ দলের নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।