মমিনুল ইসলাম বাবু ৫২ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।
রায়গঞ্জ ইউনিয়নের রতনপুর গ্রাম, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝার ইউনিয়নের মাঝিটারী গ্রামের মানুষরসহ রতনপুর এম.ইউ উচ্চ বিদ্যালয়, রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ সোনাইর খামার আলিম মাদরাসার শিক্ষকসহ শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। এখানে সেতুর অভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু শিক্ষার আলো বঞ্চিত হচ্ছে। বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসায় তাদেরকে আতঙ্কে থাকতে হয়।
বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে হাঁটার সময় দোলনার মতো বাঁশ দুলতে থাকায় প্রতিনিয়ত এখানে ঘটছে দুর্ঘটনা। বাঁশের উপর হাঁটার সময় পা ফসকে নদীতে পড়ার ভয় সবাইকে আতঙ্কিত করে। এই আতঙ্কের কারণে এখানকার শিশু-কিশোররা স্কুলে যাওয়া অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছে। এখানকার গ্রামের মানুষ অসুস্থ হলে চরম বিপাকে পড়তে হয়। তাদের পক্ষে বাঁশের উপর দিয়ে রোগীকে পারাপার করা সম্ভব না হওয়ায় যানবাহনে অধিক খরচ দিয়ে দূরের পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা শহরে আসতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে ফুলকুমর নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসী করে আসলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার দলীয় রাজনৈতিক এমনকি স্থানীয় জন প্রতিনিধিরাও গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ভোট সামনে আসলে প্রার্থীরা দুর্ভোগ কবলিত এখানকার মানুষদের সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষে তাদের দেখা মিলছে না। দুর্ভোগ কবলিত ওই এলাকার অনার্স পড়ুয়া ছাত্র লক্ষণ চন্দ্র, রতনপুর এম.ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজল মিয়া, মোকসেদুল মোমিন, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিত্রী রানী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী লাকি খাতুনসহ আরও অনেকে জানান, ফুলকুমর নদীর উপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বাঁশের টারের উপর দিয়ে আমাদের আতঙ্কের মধ্য দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে।
তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফুলকুমর নদীর উপর দ্র্রুত সময়ে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। তারা বলেন, সরকার একটু সু-নজর দিলে আমাদের এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের দুর্ভোগ শেষ হবে। এলাকার ভুক্তভোগী নরেশ চন্দ্র, আমজাদ হোসেন, আমিনা বেগম আরো অনেকে জানান, ভোটের সময় আসলে এখানে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি সবাই দিলেও ভোট শেষ হলেই তাদের ওই কথা আর মনে থাকে না। ব্রিজ হবে এ কথা বলেই এখানকার চেয়ারম্যান-এমপিরা আমাদের বুকে ভেজা গামছা তুলে দেয়।
রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ.স.ম আব্দুল্লাহ আল-ওয়ালিদ মাসুম বলেন, এখানকার জনসাধারণের জন্য ফুলকুমর নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি হয়েছে। তিনি আপাতত বাঁশের টারের পরিবর্তে ব্যক্তিগতভাবে একটি কাঠের করে সেতু নির্মাণের চেষ্টা করবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলগীর জানান, ফুলকুমর নদীর উপর সেতু নির্মাণের প্রজেক্ট নেই। ভবিষ্যতে প্রজেক্ট হলে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।