০-৯৯৯ স্কোরের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন ডা. শরিফুল
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়ার পথে বহুল প্রচলিত একটি সম্মানজনক ডিগ্রি হলো এমআরসিপি (রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব দ্য ইউনাইটেড কিংডমের সদস্যপদ)। আর এই ডিগ্রিটি পেতে হলে প্রার্থীদের তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত এমআরসিপি (মেডিসিন) দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় অসাধারণ একটি স্কোর অর্জন করেছেন ডা. শরিফুল হালিম। গত অক্টোবরে রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব দ্য ইউনাইটেড কিংডম প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ০-৯৯৯ স্কোরের এই পরীক্ষায় তিনি পেয়েছেন ১২৫৫ নম্বর।
আমরা যখন ডা. শরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তখন তিনি আমাদের জানান যে, "এমআরসিপি পরীক্ষার স্কোর বা নম্বর বণ্টন প্রচলিত অন্য পরীক্ষাগুলোর মতো নয়। কারণ এখানে কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের জন্য একজন পরীক্ষার্থী কত নম্বর পাবেন তা আগে থেকে নির্ধারণ করা হয় না। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সবাইয়ের পরীক্ষার স্কোরের ওপর ভিত্তি করে প্রশ্নের মান নির্ধারণ করা হয়। ধরুন, কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। সে ক্ষেত্রে সেই প্রশ্নের নম্বর হবে কম। আবার যে প্রশ্নটা তুলনামূলক কঠিন, অর্থাৎ বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সেটির উত্তর দিতে পারেননি, সে প্রশ্নের নম্বরই হবে বেশি। এভাবেই হিসাব করে প্রত্যেকটি প্রশ্নের নম্বর ঠিক করা হয় এবং সেই অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নম্বর দেওয়া হয়।"
আমরা আরও জানতে চাইলাম যে, "আপনার মতো এত উচ্চ স্কোর আর কেউ পেয়েছেন?" উত্তরে ডা. শরিফ জানান, "স্কোর জানার পর আমি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস সব পরীক্ষার্থীর স্কোর একটি গ্রাফের মাধ্যমে প্রকাশ করে। এবারের পরীক্ষার গ্রাফে এক হাজার অতিক্রম করা স্কোর দেখা গেছে মাত্র দুটি। একটি আমার, ১২৫৫। আর অন্যটি ১০২৫। তার আগে নিজেও জানতাম না যে এখানে হাজারের ওপর স্কোর সম্ভব।"
এর মানে তো এক কথায়, এই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর তো ডা. শরিফেরই। নিকট অতীতে ফলাফলের গ্রাফে কি এর আগে কখনও কোনো শিক্ষার্থীকে ডা. শরিফের মতো স্কোর করতে দেখা গেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে ডা. শরিফ বলেন, "পূর্ববর্তী ফলাফলের গ্রাফগুলো খুঁজে দেখেছি। কিন্তু কোনটাতেই ১০২৫-এর ওপর স্কোর দেখিনি। এই কারণে তারা গ্রাফের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ১১০০-তে। কিন্তু এবার আমার স্কোর গ্রাফে দেখানোর জন্য সীমা বাড়িয়ে ১৩০০ করা হয়েছে। আর যুক্তরাজ্যের আমার বন্ধুদের কাছ থেকে জেনেছি, তারা এর আগে এত উঁচু পরিসরে বিস্তৃত ফলাফলের গ্রাফ দেখেননি।"
এরপর আমরা ডা. শরিফের কাছে জানতে চাইলাম, "এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে কী রহস্য?" বিনীতভাবে ডা. শরিফ বলেন, "এটা ঠিক নয় যে এই উচ্চ স্কোর কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েই অর্জিত হয়েছে। আমার বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যা কিছু শিখেছি, এই সফলতার পেছনে তা-ই মূল কারণ। প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষকদের ক্লাস এবং বইপত্র থেকে জ্ঞানার্জনের সূচনা; তারপর তৃতীয় বর্ষ থেকে ওয়ার্ডে রোগী দেখে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন। এরপর সরকারি চাকরির সূত্রে বিভিন্ন রোগী দেখার সুযোগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হৃদরোগে এমডি কোর্সে ভর্তি হওয়া—এভাবে ধাপে ধাপে অর্জিত অভিজ্ঞতাই পরীক্ষায় আমার কাজে এসেছে। এ পরীক্ষায় দুটি আলাদা ‘পেপার’ থাকে। প্রথম ‘পেপার’ পরীক্ষা ভালো হলেও দ্বিতীয় ‘পেপার’ পরীক্ষা দেওয়ার পর মনে হচ্ছিল, আরেকটু ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপলব্ধি করেছি, মেডিকেল জীবনের শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করলে বিশেষজ্ঞ হওয়ার পরীক্ষাগুলোতেও ভালো করা সম্ভব। যে বিষয়গুলো পড়তে হবে, সেগুলোর স্বচ্ছ ধারণা শুরু থেকেই গড়ে তোলা জরুরি।"
বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই নিজেরাই পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। তবে এ পর্যায়ের চিকিৎসাশাস্ত্রীয় পরীক্ষাগুলো, বিশেষ করে এমআরসিপির মতো পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করা মোটেও সহজ নয়। এই ক্ষেত্রে পড়াশোনা ছাড়াও আরও কোনো কিছু কি গুরুত্বপূর্ণ? এ বিষয়ে ডা. শরিফ জানান, "আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত জরুরি। আর উৎসাহ দিতে পারে এমন একজন ভালো ‘মেন্টর’ও দরকার। আমার ‘মেন্টর’ হলেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুল মোমেন এবং অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দীন উলুব্বী। তাঁদের কারণ