৫২ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক।।
বাংলাদেশে অন্তত ২০ থেকে ৫০ হাজার রোগী আছেন যাদের কর্নিয়া বদলে দেয়া হলে চোখে দেখতে পাবেন। অথচ দেশে প্রতিবছর দেড় থেকে দুই’শ কর্নিয়া পাওয়া যায়।প্রয়োজনের তুলনায় যা সত্যিই অপ্রতুল। বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হজরত আলী সাক্ষাৎকারে এ সব কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে আগের তুলনায় বাংলাদেশে বিনা পয়সায় চোখ কম পাওয়া যাচ্ছে। যা সত্যিই দুভার্গ্যজনক। এদিকে, শ্রীলংকার মতো ছোট দেশে বছরে পাঁচ হাজার কর্নিয়া সংগ্রহ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রয়োজন মেটানো জন্য অনেক কর্নিয়া বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
ডা. হজরত আলী জানান, কর্নিয়াতে কোনো রক্তনালী নেই। এ কারণে টিস্যু ম্যাচিং’এর দরকার পড়ে না এবং যে কোনো ব্যক্তির কর্নিয়া যে কারো চোখে লাগানো যেতে পারে। মারা যাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যে কর্নিয়া সংগ্রহ করতে হবে বলে জানান তিনি। মৃতদেহে পচন ধরে যাওয়ায় এরপর আর কর্নিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। সংগ্রহ করার পর কর্নিয়াকে চার দিন থেকে শুরু করে এক বছর পর্যন্ত রাখা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
চোখের সামনের সাদা অংশটি কর্নিয়া এবং এর ব্যাসার্ধ মাত্র ১১ মিলিমিটার। চোখের অন্য সব কিছু ঠিক থাকলেও দু’টি কর্নিয়া যদি কোনো কারণে ঘোলা হয়ে বা স্বচ্ছতা নষ্ট হয়ে যায় তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চোখে দেখতে পারবেন না। নিশ্চিত ভাবেই তাকে অন্ধত্ব বরণ করতে হবে।
কর্নিয়াকে ঘোলা করে দেয় এমন রোগের প্রকোপ বাংলাদেশে আছে। মামসের মতো ভাইরাসজনিত অনেক অসুখে ঘোলা হয়ে যেতে পারে কর্নিয়া। এ ছাড়া, আঘাত বা এসিড থেকেও ঘোলা হতে পারে কর্নিয়া। জন্মগত কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে ছানি বা গ্লুকোমা অপারেশন সঠিক ভাবে করা না হলেওে একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মরণোত্তর চোখ সংগ্রহ করা হলেও মৃতদেহের কোনো বিকৃতি ঘটে না বলে জানান ডা. হজরত আলী। সাধারণ ভাবে পুরো চোখ সংগ্রহ করা হয় না বরং শুধুমাত্র কর্নিয়াই সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করার পর মৃতদেহের চোখের পাতা সুন্দর ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। তাতে বাইরে থেকে কোনো বিকৃতি দেখা সম্ভব হয় না।
বাংলাদেশে অনেক দিবস থাকলেও চক্ষুদান দিবস বলে কিছু নেই। সাধারণ মানুষকে চক্ষু দানে উৎসাহিত করার কোনো সরকারি পদক্ষেপও দেশে নেই। অথচ মানুষকে একটু সচেতন করে তুললে এ অনেক চোখ সংগ্রহ করা এবং বহু রোগীর দৃষ্টি শক্তি পুনরায় ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ তৈরি হতো বলে জানান তিনি। চক্ষুদানের কাছে বাংলাদেশের জনগণকে উৎসাহিত করতে দেশের চিকিৎসক বিশেষ করে চক্ষু চিকিৎসকরা ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।
