৫২ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক।।
সন্তান প্রসবকালে পরিস্থিতি খুব জটিল না হলে প্রসূতির সিজার না করানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মঙ্গলবার নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন করা হচ্ছে । তিনি বলেন, ‘মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে এমডিজি (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জন সম্ভব না হলেও সরকার এ ব্যাপারে কাজ করছে। এমডিজি লক্ষমাত্রায় ২০১৫ সালে মাতৃমৃত্যু প্রতি লাখে ১৪৩ জন থাকার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে আমাদের দেশে এটা ছিল ১৭৬ জন।২০১৮-১৯ সালে মাতৃমৃত্যু প্রতি এক লাখে ১৭২ জনে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ২০৩০ সালে এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) বাস্তবায়নে মাতৃমৃত্যু ৭০ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’
দারিদ্র্যের হার কমলে এবং পুষ্টির হারের উন্নয়ন ঘটলে মাতৃমৃত্যু কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিটোমেটারনাল বিভাগের প্রধান বিশিষ্ট প্রসূতি চিকিৎসাবিদ ডাক্তার ফিরোজা বেগম মনে করেন, মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে এবং অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের কারনে মাতৃ-মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
এদিকে, দেশের গাইনি চিকিৎসকদের সংগঠন ওজিএসবি জানিয়েছে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে রক্তক্ষরণ ও খিচুনি বন্ধের ওষুধ সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় বাড়ছে মাতৃমৃত্যু হার। দেশে মাতৃমৃত্যুর ৫৪ শতাংশই ঘটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও খিচুনিতে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বন্ধে দুটি জরুরি ইনজেকশন দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকার কথা। অথচ মাতৃমৃত্যুর সবশেষ জরিপ বলছে, প্রায় দুই তৃতীয়াংশ কেন্দ্রে অক্সিটসিন ও তিন চতুর্থাংশ কেন্দ্রে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ইনজেকশনের সরবরাহ নেই।
এ প্রসঙ্গে ওজিএসবি’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রওশন আরা বেগম বলেছেন, দেশের আটটি কোম্পানী এ জরুরী অষুধ উৎপাদনের কথা থাকলেও মাত্র একটি কোম্পানি তা উৎপাদন করে গোটা দেশের চাহিদা মেটাতে পারছে না।
এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ও দক্ষ চিকিৎসক, নার্স, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী বা অ্যানেসথেসিওলজিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহকারি না থাকার কারনেও প্রসূতিকালীন জটিলতা মোকাবেলায় সমস্যা হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে প্রসব করাতে গিয়ে অনাবশ্যক সিজারিয়ান এবং আর্থিক ঝুঁকির সন্মুখীন হচ্ছেন।
এদিকে আজকেও লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারের পর রুবিনা আক্তার নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। নবজাতক শিশু (ছেলে) বেঁচে থাকলেও ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।