৫২ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক।।
সাধারণ জনগণের জন্য সার্বজনীন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার, নার্সসহ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারীদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেসরকারী সংস্থা সিরাক বাংলাদেশ, ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ কোয়ালিশন ও আশার আলো সোসাইটি কর্তৃক সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ বিষয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদাত হোসাইন মাহমুদ বলেন, একটি দেশ এগিয়ে যেতে তিনটি জিনিস প্রয়োজন- দক্ষ জনশক্তি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সেবার মানসিকতা।
তিনি বলেন, চিকিৎসা এখন মানবিক সেবা থেকে ব্যবসায়িক হয়ে গেছে। সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সেবা প্রদানকারীদের মানসিকতা থাকতে হবে এবং মানবিক সেবা হিসেবে কাজ করতে হবেও বলে জানান তিনি। ড. মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে জনপ্রতি বার্ষিক স্বাস্থ্যসেবার খরচ হয় ৩৭ ডলার। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা পিপলস হেলথ মুভমেন্ট-এর বাংলাদেশ চ্যাপটারের সভাপতি জাকির হোসেন রেডিও তেহরানকে বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে যে নিম্ন বাজেট তারও বেশীর ভাগ ব্যয় হয় স্বাস্থ্যখাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, যন্ত্রপাতি কেনা, ভবন নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণ কাজে। ফলে জনগণের জন্য সরকারের আসল স্বাস্থ্যব্যয় খুব সামান্য।
জাকির হোসেন আরো বলেন, বর্তমানে জনগণের স্বাস্থ্য সেবার বিষয়টি বেরকারী চিকিৎসার নামে ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। ফলে জনগণের চিকিৎসা ব্যায়ের শতকরা প্রায় সত্তর ভাগই রোগী বা তার পরিবারকেই বহন করতে হয়।
আজকের অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদাত হোসাইন মাহমুদ বলেন, একটি পাইলট প্রজেক্টের অধীনে টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলায় ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হয়েছে। এই উপজেলা সমূহের ৮৭ হাজার পরিবার সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকার স্বাস্থ্য সেবা পাবে এই বীমার অধীনে। পরবর্তীতে এই জেলার আরো দশটি উপজেলাকে যুক্ত করা হবে। এভাবে ক্রমান্বয়ে দেশের সকল স্থানের মানুষকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক।
তিনি উল্লেখ করেন, গ্রাম পর্যায়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই সাড়ে বার হাজার কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক তৈরি করা হয়েছে। আরো সাড়ে পাঁচ হাজার করা হবে, যার ফলে স্বাস্থ্য সেবার ঘাটতি অনেকাংশে কমে যাবে।