সাবেক রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের নির্বাচনী এলাকা রাজবাড়ীতে একটি রেল কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। ব্যয় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পটি বাতিল করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রেল মন্ত্রণালয়ের এখনকার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের দুটি কারখানা রয়েছে। জনবল সংকট, কম বরাদ্দ, পুরনো যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের অভাবে কারখানা দুটি ধুঁকছে। সেগুলির আধুনিকায়ন না করে নতুন কারখানা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
শুধু রেল কারখানা নয়, রেল, সড়ক, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), দুর্যোগ, পরিবেশ, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া, অলাভজনক ও অগুরুত্বপূর্ণ’ প্রকল্প বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার। ১০টি মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান নিয়ে অন্তত ৩৫টি প্রকল্পের খোঁজ পাওয়া গেছে, যেগুলি বাতিল, অর্থায়ন স্থগিত বা ব্যয় কাটছাঁট করা হবে। এই প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি।
অনেক প্রকল্প কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলি বাতিল করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গত ১৯ আগস্ট পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া এবং কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের তালিকা করতে বলেছিলেন। এই নির্দেশের পর ভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রকল্পের তালিকা তৈরি শুরু করে। যে ৩৫টি প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত হতে যাচ্ছে, সেগুলির কোনওটির কাজ মঝামাঝি পর্যায়ে, কোনওটির কাজ মাত্র শুরু হয়েছে, কোনওটির কাজ এখনও শুরু হয়নি। কিছু প্রকল্প অনুমোদনের পর্যায়ে ছিল। মন্ত্রণালয়গুলির কর্মকর্তারা বলছেন, বাতিল বা স্থগিতের তালিকায় প্রকল্পের সংখ্যা আরও বাড়বে।
রেল, সড়ক, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া প্রকল্প তিনটি দিক বিবেচনা করে বাতিল করা হচ্ছে।
এক। প্রকল্পটি কতটা মানুষের প্রয়োজনে নেওয়া হয়েছে। দুই। প্রকল্প থেকে রিটার্ন (সুফল) কেমন আসবে। তিন। প্রকল্পটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কি না। তিনি আরও বলেছেন, অনেক প্রকল্প কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলি বাতিল হবে।
শুধু রেল কারখানা নয়, রেল, সড়ক, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), দুর্যোগ, পরিবেশ, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া, অলাভজনক ও অগুরুত্বপূর্ণ’ প্রকল্প বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আগ্রহে কিশোরগঞ্জে হাওরে একটি উড়ালসড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অর্থায়ন স্থগিত হতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আগ্রহে কিশোরগঞ্জে হাওরে একটি উড়ালসড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অর্থায়ন স্থগিত হতে পারে। কারণ, এই উড়ালসড়ক দিয়ে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচলের কথা বলা হচ্ছে, সেই পরিমাণ যান চলাচলের সম্ভাবনা কম। হাওরে উড়ালসড়ক নির্মিত হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
হাওরে উড়ালসড়কটি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা থেকে শুরু করে করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচখালীতে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। গত বছরের জানুয়ারি মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ‘হাওরে এবার উড়ালসড়ক, ব্যয় ৬ হাজার কোটি টাকা’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উড়ালসড়ক নির্মিত হলে দৈনিক যে সংখ্যক যানবাহন চলবে বলে সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, তা এখন পদ্মা সেতু ও যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করা যানবাহনের সংখ্যার চেয়ে বেশি। প্রতিবেদনটিতে এই সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
বাতিলের তালিকায় ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে হাওরে উড়ালসড়ক প্রকল্পের পরিচালক সারোয়ার মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ