গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা শারমিন বেগম জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের ভুলের কারণে টানা ১৭ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
২০০৮ সালে দেশের প্রথম ভোটার তালিকা তৈরির সময় তার নাম ভুলবশত ‘ডলি বেগম’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে একাধিকবার সংশোধনের আবেদন করলেও কোনো সমাধান হয়নি। এমনকি দালালের পরামর্শে অর্থ ব্যয় করেও ফল পাননি তিনি।
জন্মসনদ, দাখিল পরীক্ষার সনদ, বিবাহ সনদ ও সন্তানদের জন্মসনদসহ প্রায় সব নথিপত্রেই তার নাম সঠিকভাবে ‘শারমিন বেগম’। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘ডলি বেগম’ নাম থাকায় সন্তানদের পড়াশোনা, জমিজমা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে তিনি চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সিংহশ্রী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ বলেন, “সবার জানা শারমিনই তার প্রকৃত নাম। ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময় নির্বাচন কমিশনের ভুলেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংশোধন করা উচিত।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান শারমিন সামাজিক ও প্রশাসনিক নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।
গাজীপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি দুঃখজনক। পর্যাপ্ত প্রমাণপত্র থাকায় আবেদন ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকাস্থ মহাপরিচালক অফিসে যোগাযোগ করলে সমাধান হবে।”
সচেতন মহল মনে করছে, শুধু গাজীপুর নয়, সারাদেশেই জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ও তথ্য ভুলের কারণে অসংখ্য মানুষ ভোগান্তিতে আছেন। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় এসব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে শারমিন বেগম অবিলম্বে তার নাম সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।