দেশে প্রচলিত কাদা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষে প্রতিকেজি ধান উত্পাদনে প্রায় ৩-৫ হাজার লিটার পানি খরচ হয়। নতুন কোনো জাতের উদ্ভাবন ছাড়াই বোরো ধান চাষে পানি সেচের পরিমাণ অর্ধেক দিয়ে ফলন বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে বোরো ধান চাষ যে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তাও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এতে ধান চাষ করে লাভবান হবে কৃষক।
ড. মশিউর রহমান বলেন, এ প্রযুক্তিতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে বীজ বপন করতে হয়। বীজতলা তৈরি করার কোনো প্রয়োজন হয় না। সামান্য অংকুরিত বীজ (জো) অবস্থায় সরাসরি জমিতে লাইন ধরে বপন করতে হয়। ফেব্রুয়ারিতে বপনের ফলে আমন ধান কাটার পরে সরিষা, আলু বা অন্যান্য রবি শস্য চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। প্রচলিত কাদা পদ্ধতিতে যেখানে ১৫-৩০ বার সেচ দিতে হয় সেখানে ৪-৮ বার সেচেই এ পদ্ধতিতে ফসল ফলানো যায়। ভূগর্ভস্থ পানি খুব সামান্য উত্তোলন করতে হয় বলে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি তেলের খরচ কম হয়। জমিতে পানির পরিমাণ কম থাকায় কাদা পদ্ধতির তুলনায় এ পদ্ধতিতে গ্রীন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কম হয়। এ পদ্ধতিতে ধানের জীবনকাল ১৫ দিন কমে যায়। প্রচলিত পদ্ধতির তুলান এ পদ্ধতিতে ধানের ফলন বেশি হবে বলেও জানান তিনি।
এ গবেষণায় সহযোগী হিসাবে ছিলেন ডিএই এর ডিডি (এল আর) মো. জয়েন উদ্দিন, পিএইচডি শিক্ষার্থী শাহজাহান সরকার এবং রিসার্স ফেলো মোজাহার হোসেন। মোঃ জয়েন উদ্দিন বলেন, এ প্রযুক্তির একমাত্র সীমাবদ্ধতা ছিল আগাছা, যা নিবিড় গবেষণায় স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তবে ইউরিয়া সার কিছুটা বেশি প্রয়োগ করতে হয়। ইতোমধ্যে নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিনাজপুর, রংপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী অঞ্চলে দেশীয় জাতের বিরি ধান-২৮ ও বিরি ধান-৫৮ চাষ করে কম খরচে বেশি ফলন পেয়েছেন বলে জানান কৃষকরা।