৫২ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক।।
শীতে আমাদের শরীর বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। আসুন আমরা ধারাবাহিকভাবে জেনে নেই সমস্যা এবং তার প্রতিকার।
ত্বকের সমস্যা
শীতে স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে একটি। বিভিন্ন কারনে ত্বকে ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। খুব সাধারন একটি সমস্যা হচ্ছে ত্বক ফেটে যাওয়া, ফেটে যাওয়া জায়গাগুলো হতে পারে ঠোঁট, হাত-পা বা অন্যান্য শুকনো জায়গা।
এর একটি প্রধান কারন হচ্ছে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া। ফলে প্রকৃ্তি অনেকটা শুষ্ক হয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণে পরিবেশের যে কোন বস্তু থেকে জলীয় কোন উপাদান বাতাস গ্রহণ করে থাকে। যার কারণে ত্বকের শুষ্কতা বাড়ে। আবার অনেকের ত্বক প্রায় সব সময় শুষ্ক থাকে বলে অনেকে দাবি করে থাকে। শীতে তাদের ত্বক ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। ফেটে যাওয়া ত্বক থেকে অনেকের রক্ত বের হতে পারে।
এছাড়া শীতে ধুলা-বালির পরিমান বেড়ে যায়। সৃষ্টি হয় নানা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, এ সময় ত্বকের শুকনো জায়গাগুলো চুলকাতে পারে। চুলকানি ত্বকের বিভিন্ন শুষ্কতাজনিত রোগের কারণে হতে পারে।
ত্বকে আক্রমনকারী বিভিন্ন রোগ
ক) শীতে শরীরের শুকনো স্থানগুলোতে একজিমা অর্থাৎ উইন্টার একজিমা, জেরোটিক একজিমা দেখা দেয়। জায়গাগুলো হচ্ছে হাত-পায়ে এবং কোমরে। লক্ষণগুলো হল ভীষন চুলকায়, চুলকানো জায়গা ফাটা দেখা যায়, ফাটা জায়গা লাল বর্নের হতে দেখা যায়।
খ) একজিমার পাশাপাশি সরাইয়াসিসও দেখা দিতে পারে। শীতে সরাইয়াসিস রোগের তীব্রতা তুলনামুলকভাবে বেড়ে যায়। এ রোগে ত্বক লাল লাল হয় এবং চুলকায়। সরাইয়াসিস বিশিষ্ট অধিকাংশ লোকের ত্বক ঝুরঝুর করে খসে পড়ে, সাদা বা রুপালি প্রলেপসহ লাল বর্ণের মোটা চামড়া থাকে। আক্রান্ত জায়গা ভীষণ চুলকায়, শুষ্ক হয়ে যায়, গোলাপী লাল বর্ণ ধারণ করে। অন্যান্য লক্ষণ হচ্ছে পুরুষের মধ্যে জেনিটাল সোর, জয়েন্টে ব্যাথা, নখের বর্ণ পরিবর্তন। শুষ্ক বাতাস বা শুষ্ক ত্বকের কারনে এটি শীতকালে দেখা দিতে পারে।
গ) শীতে খোস-পাঁচড়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। বছরের যে কোন সময় এটি হতে পারে। অতি ক্ষুদ্র কীট দিয়ে এটি হয়ে থাকে। এই কীট ত্বকের নিচে গর্ত করে বাস করে এবং ডিম পারে। অতি ছোঁয়াচে একটি রোগ, পরিবারের একজনের হলে অন্য সবার হতে পারে।
ঘ) শীতে খুশকি একটি সাধারন সমস্যা, কম বেশি সবার হয়ে থাকে। গরম কালের তুলনায় শীতে এর প্রকোপ বেড়ে যায়। শরীরের অন্যান্য জায়গায় যেমন ত্বকের সমস্যা দেখা দেয় তেমনি খুশকিও মাথার ত্বকের একটি বিব্রতকর সমস্যা।
পেটের সমস্যা
শীতকালে খাবারের মেটাবোলিক অ্যাক্টিভিটি বা কাজ কমে যাওয়ার কারনে কার্বোহাইড্রেটজাতীয় বা ফ্যাটজাতীয় খাবার সরলতর পদার্থে রুপান্তরিত হয় না। এ কারনে দেখা দিতে পারে পেটের বদ হজম, পেট ব্যথা, পেট ফাঁপা এমন কি বমি বমি ভাবও হতে পারে।
ডায়ারিয়া শীতে আরেকটি স্বাস্থ্য সমস্যা। যা অধিকাংশ সময় আমাদের বিপর্যয়ে ফেলে। এমনিতেই শীতে শরীর থেকে জলীয় বস্তু চলে যাওয়ার কারনে এক ধরনের ঘাটতি লক্ষণীয়, আবার যদি ডায়ারিয়া দেখা দেয় তাহলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, ফলে পানিশুন্যতা দেখা দেয়। এটি জীবনের জন্য বেশ হুমকিস্বরূপ।
অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ডার্মাটাইটিস বা অন্যান্য অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশান ইত্যাদি সমস্যা শীত ঋতুতে অধিক বেড়ে যেতে পারে। কিছু সমস্যা ধূলাবালি থেকে হয়, আর কিছু সমস্যা খাবার থেকে। শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারনে খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকেও কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন অ্যালার্জিকরাইনাইটিস, ব্রোংকাইটিস।
কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়
প্রথমত, ত্বকের যত্নে নিয়মিত গোসল করতে হবে। তবে এমন কোন সাবান ব্যবহার করা যাবে না যা ত্বকের শুষ্কতা বাড়িয়ে দিতে পারে। অতি গরম পানি ব্যবহার না করে কুসুম বা হাল্কা গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কিংবা ত্বক কোমল রাখতে অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়াও পেট্রোলিয়াম জেলী, লিকুইড প্যারাফিন ও গ্লিসারিন ইত্যাদি পন্য ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। গোসলের পর এসব ময়েশ্চারাইসার ব্যবহার করতে পারেন।
একজিমা, সরাইয়াসিস, খোস-পাঁচড়া, খুশকি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে, প্রতিরোধের জন্য ঔষধ ব্যবহার করা প্রয়োজন হতে পারে। তবে তার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সরাইয়াসিস দেখা দিলে চিকিৎসক সাধারনত Dithranol, Tazarotene, Betamethasone, Clobetasone, Calcipotriol, Halcinonide এর সাথে antibiotic কমবাইন্ড প্রিপারেইশান ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন; খোস পাঁচড়ার ক্ষেত্রে Benzyl benzoate, Crotamiton, Permethrin ইত্যাদি। খুশকি দেখা দিলে কিটোকোনাজল বা সেলেনিয়াম ডাইসালফাইড শ্যাম্পু মাথায় ব্যবহার করতে বলা হয়।
কিন্তু এ সমস্ত ঔষধ ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টের পরামর্শ ব্যতীত ব্যবহার করা যাবে না।