৫২ জাতীয় ডেস্ক||
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৪৪০ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। পার্বত্য তিন জেলা বাদে সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এ নিয়োগ দেয়া হবে। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর বিভিন্ন পত্রিকায় ও তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে।
যারা আবেদন করতে পারবেন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এ নিয়োগ দেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধার প্রতিবন্ধী সন্তান বা প্রতিবন্ধী নাতি-নাতনিরা এতে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা
এ পদে পুরুষ-নারী দুই-ই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য পুরুষ প্রার্থীদের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণী/সমমানের জিপিএসহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পাস হতে হবে। অন্যদিকে নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/সমমানের জিপিএসহ উত্তীর্ণ অথবা স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। উভয় প্রার্থীদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ অথবা ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। ৩০ জুন ২০১৬ তারিখে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধার প্রতিবন্ধী সন্তান বা প্রতিবন্ধী নাতি-নাতনিদের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের বয়স সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে।
বেতন
একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১০ হাজার ২০০ (গ্রেড ১৪) টাকা স্কেলে বেতন পাবেন। আর প্রশিক্ষণবিহীন একজন সহকারী শিক্ষক ৯ হাজার ৭০০ (গ্রেড-১৫) টাকা স্কেলে বেতন পাবেন। এছাড়া অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
আবেদনের শেষ সময়
এরই মধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আবেদন করা যাবে ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। তাই লক্ষ্য যাদের শিক্ষক হওয়ার, আবেদনের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে পদটিতে আবেদন করতে পারেন এখনই। কারণ শেষ দিকে অনলাইনে আবেদন নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে www.dpe.gov.bd এই ঠিকানায়।
অনলাইল আবেদন প্রক্রিয়া
সহকারী শিক্ষক পদে প্রার্থীরা http://dpe.telelalk.com.bd এবং www.dpe.gov.bd এই ওয়েবসাইটে লগ ইন করলে একটি লিংক পাবেন। এই লিংকে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র পূরণ করে সাবমিট করার পর অ্যাপ্লিকেশন কপি প্রিন্ট করতে হবে। সঠিকভাবে পূরণকৃত অ্যাপ্লিকেশন কপির ইউজার আইডি দিয়ে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। শুধু ইউজার আইডিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা উক্ত সময় পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে ফি দিতে পারবেন। আবেদনকারীকে একটি ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেয়া হবে। এই ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড সব সময়ের জন্য প্রার্থীকে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রার্থীকে পরীক্ষার ফি বাবদ সার্ভিস চার্জসহ ১৬৬.৫০ টাকা যে কোনো টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। টাকা জমা দিতে হবে অনলাইনে আবেদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইনে দাখিল করা আবেদনের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি, প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত শিক্ষাগত যোগ্যতা-সম্পর্কিত সব মূল বা সাময়িক সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরের দেয়া নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।
যেসব উপজেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না
ঢাকা : মোহাম্মদপুর, রমনা ও ডেমরা। ফরিদপুর : নগরকান্দা, মধুখালী। জামালপুর : মাদারগঞ্জ। কিশোরগঞ্জ : তারাইল। নেত্রকোনা : কলমাকান্দা ও কেন্দুয়া। টাঙ্গাইল : ঘাটাইল। রাজবাড়ী : পাংশা। শরীয়তপুর : ডামুড্যা। ময়মনসিংহ : ভালুকা, তারাকান্দা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ : গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট। নাটোর : লালপুর। রাজশাহী : বাঘা। কুষ্টিয়া : দৌলতপুর, ভেড়ামারা। মাগুরা : শ্রীপুর। লক্ষ্মীপুর : রামগতি, কমলনগর। চট্টগ্রাম : কোতোয়ালি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : কসবা। ভোলা : লালমোহন। সুনামগঞ্জ : সদর, দোয়ারাবাজার। নোয়াখালী : সুবর্ণচর। পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ। কুড়িগ্রাম : চিলমারী ও ফুলবাড়ি।
পরীক্ষা পদ্ধতি
সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক পদে এর আগে ৮০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হতো। বাংলা গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকত। প্রতিটি প্রশ্নে ১ নম্বর বরাদ্দ থাকে, প্রত্যেক ভুল উত্তরের জন্য কাটা যায় ০.২৫ নম্বর। তবে এবারের নিয়োগে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এসব পরীক্ষার তারিখ পরে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
প্রস্তুতি
পরীক্ষা প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে হবে। এ পরীক্ষায়ও তুমুল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। কারণ আবেদনকারী অনেক। আগের নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলা অংশে ব্যাকরণ এবং সাহিত্য দুই অংশ থেকেই প্রশ্ন হয়। ব্যাকরণ অংশের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর ব্যাকরণ ভালো করে পড়তে হবে। সেই সঙ্গে সৌমিত্র শেখরের ‘বিষয় বাংলা’ বইটিও পড়তে পারেন। ইংরেজিতে ব্যাকরণ থেকেই বেশি প্রশ্ন হয়ে থাকে। তবে কবি সাহিত্যিকদের জীবনী, সৃষ্টিকর্ম জানা থাকতে হবে। গণিতে পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি থেকে প্রশ্ন করা হয়। সাধারণ জ্ঞানের জন্য সাম্প্রতিক বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি মৌলিক বিষয়গুলো জানতে হবে। ম্যাপে ভালো ধারণা থাকতে হবে।
সহায়ক বইপুস্তক
গণিতের জন্য ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেণীর পাঠ্যবইগুলো ভালো করে অনুশীলন করতে হবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাজারে বহু বই রয়েছে, এর একটি পড়লেই যথেষ্ট। তবে মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, কারেন্ট ওয়ার্ল্ড ও নিয়মিত পত্রিকা পড়লে সাধারণ জ্ঞানে ভালো উত্তর করা যাবে। ইংরেজির জন্য ইংলিশ ফর কমপিটির্টিভ এক্সাম বইটি ভালো। এছাড়া বিগত বছরের প্রশ্নপত্রগুলোর প্রতি চোখ দিতে সেই আলোকে প্রস্তুতি নিতে পারলে পরীক্ষায় ভালো করা যাবে বলে আশা করা যায়।