জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, “মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এদিকে ২৭ তারিখে মামলা রুজু করা হলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ পরে ২৯ জুন (সোমবার) আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে আবারো সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ।
এর আগে সরকারি জমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক আব্দুল আজিজ হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে মামলা দায়েরের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে আরাফাত রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে বনভূমি দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন, চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারুইপাড়া বিটের বারুইপাড়া মৌজার এসএ ১৭১১ ও আরএস ৩৭৪৯ নম্বর দাগে প্রায় ছয় একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে সেখানে ‘খাসপাড়া’ নামে অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় অপরাধচক্রের সদস্যদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, রাসেলের সহযোগীরা বারুইপাড়া মৌজার এক নম্বর খাস খতিয়ানের আরএস ৪২৯৮ নম্বর দাগের প্রায় ১২৫ শতাংশ সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে সেখান থেকে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের আওতায় আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে একাধিক ব্যক্তির কাছে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও বন বিভাগের ডিমারকেশনকে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে রাসেলের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন ঘটনায় প্রভাব বিস্তার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করা হয়। সেই অর্থের প্রভাবে এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও করেছেন অনেকে।
রাসেলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক।
বন বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, রাসেলের বিরুদ্ধে অতীতে বন আইনে একাধিক মামলা হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বারুইপাড়া ও রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল, ঘর নির্মাণ এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সরকারি খাস খতিয়ানের জমির জবরদখলের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোঃ সোহেল রানা জানান, সম্প্রতি দৈনিক নয়া দিগন্তে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আমাদের নজরে এসেছে আমরা এই জমিটির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য অতি শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব এ বিষয়ে মাননীয় জেলা প্রশাসকও অবগত আছেন।
বনভূমি জবরদখলের বিষয়ে ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক (সিএফ) মোঃ ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, আরাফাত রহমান রাসেলের জবরদখলের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি আমরা তথ্যের ভিত্তিতে অতি শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করে সংরক্ষিত বনভূমির জায়গা জবরদখল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেব এবং এই জবরদখলের পেছনে যদি আমার কোন স্টাফ যুক্ত থাকে এবং তার যথাযথ প্রমাণ পাই তাহলে বিধি অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরাফাত রহমান রাসেলের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং সরকারি জমি ও বনভূমি দখলের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিক নেতারা।