৫২ জাতীয় ডেস্ক ।।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-ভারত টাস্ক ফোর্সের প্রথম বৈঠক বসছে অক্টোবরে। ওই সময় টাস্ক ফোর্সের ভারতীয় সদস্যরা ঢাকা যাবেন। টাস্কফোর্সের বাংলাদেশি সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক হবে, দুই দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার ভালো কোন কোন বিষয় অন্য দেশ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আজ শনিবার সংবাদমাধ্যমকে এই খবর জানান।
মোহাম্মদ নাসিম চার দিনের সফরে ভারতে এসেছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সম্পর্কিত ‘গ্লোবাল কল টু অ্যাকশন সামিট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা বিস্তারিতভাবে জানান। বিশ্বের মোট ২৪টি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়াও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিল জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ বলেন, নভেম্বর মাসে ঢাকায় আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলন হবে। পৃথিবীর ১২৪টি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা সেই সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেই সময় ঢাকায় যাবেন ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জয়প্রকাশ নাড্ডা। সেই সফরে টাস্ক ফোর্সের সুপারিশ দুই দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাস্তবায়িত করবে বলে নাসিম জানান। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম গত শুক্রবার বৈঠক করেন।
সেই বৈঠকেই ঠিক হয়, দুই দেশ একে অন্যের ভালো ও কার্যকর পরিষেবাগুলি গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের ‘হে কমিউনিটি ক্লিনিক’ ভারতের নজর কেড়েছে। বাংলাদেশের এই প্রকল্প ভারত সে দেশে রূপায়ণে আগ্রহী। বাংলাদেশ আগ্রহী ভারত থেকে হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ ও হাকিমি চিকিৎসার জ্ঞান নিয়ে দেশে প্রসার ঘটাতে। এ জন্য দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের নিয়ে টাস্ক ফোর্স গড়া হবে। ভারত যে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে, তার একটা অংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার অনুমতি বাংলাদেশ চেয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম আজ বলেন, ভারত শর্ত শিথিল করলে সেই টাকা তাঁরা চারটি নতুন হাসপাতাল নির্মাণ ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে খরচ করবেন।
চারটি নতুন হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও রাঙামাটিতে। এ ছাড়া ঢাকায় একটা ক্যানসার এবং একটা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট তৈরিতেও ঋণের টাকা খরচে তাঁরা আগ্রহী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এক একটা হাসপাতাল তৈরিতে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা লাগে। তিনি জানান, তাঁদের অনুরোধ অনুযায়ী ঋণের কত টাকা স্বাস্থ্য খাতে খরচ করা যেতে পারে দুই দেশ আপাতত তা খতিয়ে দেখছে।