বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “৪৫ বছর পার হয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের। স্বাধীনতার ৪৫ বছর আমরা পেরিয়ে এসেছি, এখনও কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ও হতাশার সঙ্গে বলতে হয়- আমাদের নতুন প্রজন্ম, আমরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানি না।
“আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র দাবিদার হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া কোনো কথাই মুখ দিয়ে বলতে চান না, তারা গোটা জাতিকে, নতুন প্রজন্মকে একটা বিকৃত ইতিহাস দিচ্ছেন।”
দীর্ঘদিন শিক্ষকতার পর আশির দশকে মূলধারার রাজনীতিতে আসা মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম, আমরা সেই বিকৃত ইতিহাসে ভুলতে রাজি নই।”
দলের নেতাকর্মীদের বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জীবনীভিত্তিক বই পড়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বর্তমান বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বলে অভিযোগ করেন ঠাকুরগাঁওয়ের মুসলিম লীগ নেতা মির্জা রুহুল আমিনের ছেলে মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “আমরা যে জন্য যুদ্ধ করেছিলাম, সেই বাংলাদেশ আমরা আজ দেখছি না। ৪৫ বছর পরে আজকে সম্পূর্ণ এক ভিন্ন বাংলাদেশ দেখছি। যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, সেই স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে গেছে।”
গাইবান্ধায় সাঁওতাল উচ্ছেদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অদৃষ্টের কী নির্মম পরিহাস, একাত্তর সালে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের বাড়ি-ঘর, গ্রামের পর গ্রাম পুঁড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। আজকে আবার এতদিন পরে স্বাধীন বাংলাদেশের পত্রিকায় আমরা দেখছি, আমাদের সবচেয়ে অসহায়, একেবারে পিছিয়ে পড়ে থাকা আদিবাসী সাঁওতালদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনী। ধিক, লজ্জা! এই লজ্জা রাখার জায়গা কোথাও নেই।
“শুধু তাই নয়, এই বাংলাদেশ যেখানে একাত্তর সালে পাকিস্তানি বাহিনী হিন্দুদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল, আজকে সেই দেশে শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর-মন্দির পুড়িয়ে দিয়ে তাদের নিঃশেষ করে দেওয়া হচ্ছে। এটাই হচ্ছে আজকের বাংলাদেশের চিত্র।”
বিজয় দিবসের আগের দিন গুলিস্তানে কাজী বশির মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চে) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “যারা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসিত কথা বলেন-তারা কুৎসিত মানুষ। আমরা কুৎসিত নই, আমরা জিয়াউর রহমানের শিক্ষায় শিক্ষিত, আমরা সত্য-সুন্দরের মধ্য দিয়ে অসুন্দর ও অসত্যকে পরাজিত করব।”
বাংলাদেশ কারও মুখাপেক্ষী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের সংগ্রাম মায়ের জন্য সংগ্রাম, আমাদের সংগ্রাম আমাদের অধিকারের জন্য। আমার দেশে আমি বাস করব, আমার দেশ আমি তৈরি করব, আমার দেশের লক্ষ্য আমরা ঠিক করব, কারও কথায় আমি চলব না।
“এজন্য আজকে আমাদের তৈরি হতে হবে। এই বিজয় দিবসে আবার নতুন করে শপথ নিতে হবে, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের পূর্বপুরুষেরা দেখেছিল, সেই স্বপ্ন নিয়ে দেশের মানুষের এবং আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে আমাদের অণুপ্রাণিত করেছেন, সেই বাংলাদেশ আমাদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “দেশে আজ গণতন্ত্র নাই, কথা বলার অধিকার নাই, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার নাই। সামনে সুযোগ আসছে, এই সরকারের যদি বোধোদয় হয়, তাহলে এদেশে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য সরকার সহযোগিতা করবে, যেই পরিস্থিতিতে জনগণ নিজের ভোট নিজেরা দিতে পারবে, যাকে পছন্দ তাকে দিতে পারবে। তাহলেই বর্তমান সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট দূরীভুত হবে।”
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার, যুব দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম ও ছাত্র দলের সভাপতি রাজীব আহসান বক্তব্য দেন।