গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী মাস্টার পাড়া এলাকায় নিজের ক্রয়কৃত চৌহুদ্দী রেখে পার্শ্ববর্তীর ক্রয়কৃত চৌহুদ্দীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্থানীয় আয়নাল হক তার পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানার, আর এস ২০১৮ দাগের জমি থেকে সোয়া পাঁচ শতাংশ জমি ২০০১ সালের ১৩ জুন ১০৬৯৯ নং সাফকাবলা দলিল মূলে সালাউদ্দিনের নিকট ৩০ হাজার টাকায় বিক্রয় করে তাকে দখল বুঝিয়ে দেন। যার চৌহুদ্দী ছিল উত্তরে নুরুজ্জামান, দক্ষিণে আনোয়ার হোসেন গং, পূর্বে দাতার নিজ জোত ও পশ্চিমে আঃ করিম সরকার। এই চৌহুদ্দীতে সালাউদ্দিন তার ক্রয়কৃত সোয়া পাঁচ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
এরপর আয়নাল হক একই দাগের জমি থেকে সাত শতাংশ জমি ২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল ৮৪৯১ নং সাফকাবলা দলিল মূলে জাহাঙ্গীর আলমের নিকট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রয় করে বুঝিয়ে দেন । যার চৌহুদ্দী ছিল উত্তরে রাস্তা ও নুরু বেপারী, দক্ষিণে ছানোয়ার গং, পূর্বে ছানোয়ার গং পশ্চিমে রাস্তা ও দাতা নিজ জোত এই চৌহদ্দিতে জাহাঙ্গীর আলম তার ক্রয়কৃত সাত শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে সালাউদ্দিন তার ভোগদখলকৃত চৌহুদ্দীর জমি রেখে জাহাঙ্গীরের ভোগদখলীয় চৌহুদ্দীর জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজে আইনজীবী হওয়ায় তার প্রভাব ও পরিবারের একজন ময়মনসিংহ কোর্টের ম্যাজিস্টেট থাকায় তার প্রভাব খাটিয়ে একটি সাজানো মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানী করে প্রতিপক্ষের চৌহুদ্দীতে এসে তার জমি নিজের দাবি করে দখল করছেন এই আইনজীবী।
জমির মূল মালিক আয়নাল হক জানান, ২৬ বছর আগে সালাউদ্দিনের কাছে তিন ঘন্ডা জমি ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করি সে দলিলে ৩০ হাজার টাকা মিথ্যা উল্যেখ করে , তাকে তখন চৌহুদ্দী অনুযায়ী জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছি সে সেখানে গাছ লাগিয়ে ৪ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রি করেন। পরে সে আমার ও আমার স্ত্রীর নামে গাছ কাটার মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটায় এবং তার দখলের জমি বিরোধী পক্ষের সাথে আতাত করে ছেড়ে দিয়ে আমার কাছে জমি দাবি করে। জাহাঙ্গীর আলমের কাছে আমি সাত শতাংশ জমি আজ থেকে ১৫ বছর আগে বিক্রি করে চৌহুদ্দী অনুযায়ী বুঝিয়ে দেই । জাহাঙ্গীর তার জমির খাজনা খারিজ করে নেয়। এখন এই সালাউদ্দিন নতুন করে আমার ও আমার স্ত্রী এবং জাহাঙ্গীরের জমি যে দেখাশোনা করে তার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে জাহাঙ্গীরের জমি দখল করছেন। সে নিজে আইনজীবী ও তার ভাতিজা একজন ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ায় তার প্রভাবে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে পথে বসিয়েছে। এখন আমি ঘর বাড়ি ছাড়া ও নিস্ব! আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগীতা চাই।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ২০১১ সালে আয়নাল হকের কাছ থেকে চার লাখ ৩০ হাজার টাকায় সাত শতাংশ জমি কিনে আমার চৌহুদ্দীতে ভোগ দখলে আছি। এমাতাবস্থায় গাজীপুর বারের আইনজীবী সালাউদ্দিন জমির মুল মালিকের সাথে বিরোধ করে তার চৌহুদ্দী রেখে আমার চৌহুদ্দীতে দখল করতে আসেন। এই বিষয়ে গত ১৮ মে স্থানীয় ভাবে বসলে সে সেখানে তার দাবির পক্ষে দলিলের চৌহুদ্দী দেখাতে ব্যর্থ হয়ে আমার জমি দখলের চেষ্টা করে। পরে আমি এই বিষয়ে গত ২৪ মে জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করি যাহার নাম্বার – ১২৪৪, এর পর সালাউদ্দিন তার প্রভাব ও তার ভাতিজা ম্যাজিস্টেট থাকায় তার প্রভাব খাটিয়ে গাজীপুরের আদালতে একটি সাজানো মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানী করে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার চৌহুদ্দীতে এসে আমার ক্রয়কৃত জমি সে দখল করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, আমার দলিল আগে তাই আমার দাবি আগে আমাকে আগে যেখানে জমির দখল দিয়েছে ঐ জমি অন্য জনের হওয়ায় আমি মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দিলে মালিক আমাকে এখানে দখল বুঝিয়ে দেন, পরে আমি এখানে দখল নিলে আমার দখল নিতে বাধা আসে তাই আমি চাঁদাবাজীর মামলা দিয়েছি। এখন মালিক পলাতক তাই আমি আমার জমি দখল করে বাউন্ডারি করছি। নিজের ও ভাতিজার প্রভাব খাটিয়ে জমির মূল মালিককে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি করে জাহাঙ্গীরের জমি জোর করে দখল নিয়েছেন বলে মালিকের করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কল কেটে দেন।