**ন্যাশনাল টির প্লেসমেন্ট শেয়ার বিতরণের অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠিত**
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) এর নতুন শেয়ার ইস্যু নিয়ে তুঘলকি ফন্দিবাজির ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত বুধবার রাতে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার বিএসইসির পক্ষ থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
কমিটিকে এনটিসির প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুতে কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না, কোম্পানিতে সরকারি মালিকানার অংশ কমে যাওয়ার কারণসহ আরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক রাকিবুর রহমানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক বনি ইয়ামিন খান ও সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম। কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রথম আলো সংবাদপত্রে ১২ অক্টোবর একটি প্রতিবেদনে এনটিসির প্লেসমেন্ট শেয়ার বিতরণের তুঘলকি কাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই পরিচালনা পর্ষদকে না জানিয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা করতে শেয়ার বিতরণ করে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিএসইসি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করার উদ্যোগ নেয়।
তদন্ত কমিটিকে আটটি বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
* গত পাঁচ বছরে কোম্পানিতে সরকারি মালিকানার অংশ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান।
* ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বা সরকারের শেয়ার নতুন শেয়ারধারীদের মধ্যে বিক্রি বা হস্তান্তর করার ফলে কোম্পানির মূলধনে কী পরিবর্তন ঘটেছে।
* নতুন শেয়ার ইস্যু ও সংগৃহীত অর্থের ব্যবহারের উদ্দেশ্য।
* প্লেসমেন্টে নতুন শেয়ার ইস্যু ও কী পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে, সে সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ।
* প্লেসমেন্ট শেয়ারের চাঁদা গ্রহণের সময় বৃদ্ধির আবেদনের পরও কেন কিছু ব্যক্তিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করা হলো, তার কারণ অনুসন্ধান।
* কোম্পানির ঋণ পরিস্থিতি ও ক্রমাগত লোকসানের কারণ।
* গত ২৮ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির কারণ।
* প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুতে বিএসইসি কর্তৃক দেওয়া শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কি না।
এদিকে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় এনটিসির প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর জন্য সময়সীমা আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, ৩১ মার্চের মধ্যে প্লেসমেন্ট শেয়ারের চাঁদা গ্রহণ ও অন্যান্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। সময় বৃদ্ধির শর্ত হলো, কোম্পানিতে সরকারি মালিকানার অংশ ৫১ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সরকারি মালিকানার অংশ ৫১ শতাংশে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটি প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না।