৫২ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহ সদরের দোগাছি গ্রামের দাউদ হোনের স্ত্রী শাহানারা বেগম পারিবারিক কল্যহের জের ধরে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে। শাহানারা (১৪ই ডিসেঃ) বুধবার গভির রাতে মৃত্যবরণ করেন।
গ্রামবাসী সুত্রে জানাগেছে, শাহানারা বেগম দোগাছি ইউনিয়নের দাউদ হোসেনের স্ত্রী। দির্ঘ ১৫/১৬ বছর তাদের বিবাহ জীবন। দুই মেয়ে নিয়ে তাদের সুখের সংসার ছিল। বড় মেয়ে শিলা খাতুন নারিকেলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে পড়ে এবং ছোট মেয়ে ৪ বছরের। এর আগে তিন বার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অপারেশনও করায় দাউদ। এ ভাবেই চলছিলো তাদের অভাবের সংসার, মাঝে মধ্যে দেখা যায় এদের মধ্যে ঝগড়া, ঝাটি মনদ্বন্দ। এ অবস্থায় মঙ্গল বার রাত্রে তাদের মাঝে ঝগড়া হতে দেখা যায় পরে আমরা সকলে জানতে পারি শাহানারা বিষ খেয়েছে।
শাহানারার শশুড় বাড়ীসুত্রে জানাগেছে, শাহানারার তিন বার অপারেশন করানো হয় এবং তার শরীর অসুস্থ অনেক দিনথেকে। বুধবার হঠাৎ শাহানারা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার প্রচন্ড পেটে ব্যাথা করে। পেটের ব্যাথা সইতে না পেরে বিষ পান করে। পরে আমরা জানতে পারলে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহানারা মৃত্যুবরণ করে।
শাহানারার বড়ভাই রইচ উদ্দিন সুত্রে জানাগেছে, শাহানারার ১৬ বছর দাউদের সাথে বিয়ে হয়। শাহানারার বারবার শরীর অসুস্থ হবার পরে তাকে কয়এক বার অপারেশন করাতে হয়। তিন বার অপারেশন করতে অনেক টাকা খরচ হওয়ার পর থেকে আমাদের কাছে টাকা চাইতে থাকে আমরা না দিতে পারলে শাহানারাকে বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার, নির্যাতন করে। অবশেষে নির্যাতন সইতে না পেরে বুধবার শাহানারা বিষ খায়। শাহানারাকে অবশ্যই হত্যা করে পরে তার শশুর বাড়ির লোক জন মুখে বিষ দিয়ে নাটক করছে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা: সাংবাদিককে বলেন, বুধবার দুপুর অনুমানিক ১টার দিকে নিজ বাসায় বিষ খেলে পরিবারের লোকজন দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তী করা হয়। এখানে চিকিৎসারত অবস্থায় শাহানারা মারা যায়।
এ ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার সাংবাদিককে বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।