ভারতের পাকিস্তান বর্জনের ডাক, আইসিসির কী ক্ষতি?
চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের রাজনৈতিক বিরোধের কারণে পাকিস্তানে তারা ক্রিকেট খেলতে যায় না। পাকিস্তানে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও দল পাঠানোর বিরোধিতা করেছে ভারত সরকার। আইসিসি ইমেইলের মাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশির ভাগ টেস্ট খেলুড়ে দল নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও পাকিস্তানে গিয়ে ক্রিকেট খেলেছে। কিন্তু তারপরও ভারত নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে সেখানে খেলতে যাওয়া এড়িয়েছে। পাকিস্তান সরকারও এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়েছে।
এএফপি এবং আরো কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তান সরকার বার বার বলেছে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের স্বার্থে খেলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখা উচিত। কিন্তু ভারত সরকার তাদের কথায় কান না দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলায় বিধিনিষেধ জারির কথা ভাবছে।
সরকারের নির্দেশে পিসিবিও ভারতের বিরুদ্ধে কোনো ম্যাচ না খেলার এবং ভবিষ্যতে ভারতে দল না পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এক কথায়, পাকিস্তান ভারতকে বর্জন করছে।
২০২৫ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আইসিসির চারটি বড় ইভেন্ট ভারতে হওয়ার কথা আছে। ২০২৫ মহিলাদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এই চারটি টুর্নামেন্ট খেলতে যদি পাকিস্তান ভারতে না যায় বা টুর্নামেন্ট গুলো অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে আয়োজন করা হয় কিন্তু তাতেও পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করে, তাহলে আইসিসিকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লোকসানের মুখোমুখি হতে হবে।
আইসিসি লাভবান হওয়ার জন্য তাদের আয়োজিত টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখে। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি পাকিস্তান ভারতে খেলতে না যায় বা ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করে, তাহলে দর্শকদের আগ্রহ কমে যাবে। এর ফলে সম্প্রচারকারী সংস্থা এবং পৃষ্ঠপোষকরাও আইসিসিকে ছেড়ে যেতে পারে। আর এতে আইসিসির আশানুরূপ রাজস্ব হবে না।
আইসিসির সবচেয়ে বেশি আয় হয় সম্প্রচারস্বত্ব এবং স্পনসরশিপ থেকে। ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসি শুধুমাত্র সম্প্রচারস্বত্ব থেকেই আয় করবে ৩২০ কোটি মার্কিন ডলার। এই সময়ে তারা অন্যান্য খাত থেকেও ১০০ কোটি ডলার আয়ের আশা করছে। আইসিসির সবচেয়ে বেশি আয় হয় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে রেকর্ডসংখ্যক দর্শক হয় এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকে।
আইসিসির ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে এক সূত্র বলেছে, ‘যদি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হয়, তাহলে সব ধরনের সম্প্রচারকারী এবং স্পনসর চুক্তি থেকে সরে যাবে।’
আহমেদাবাদে গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি নিয়ে প্রচুর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ভারতে টিভি চ্যানেলে এই ম্যাচ ১৭ কোটি ৩০ লাখ দর্শক দেখেছেন। আর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শক ছিল আরও বেশি, ২২ কোটি ৫০ লাখ। ডিজনি প্লাস হটস্টার দাবি করেছে যে এই ম্যাচটি তাদের প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় এটি সবচেয়ে বেশি দর্শকের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।
আইসিসির আয় কমে গেলে তা বিশ্ব ক্রিকেটের ওপরও প্রভাব ফেলবে। এর ফলে ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে রাজস্ব বণ্টন কমিয়ে দেওয়া হবে, যা বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।