৫২ আইন আদালত ডেস্ক।।
কুমিল্লার আদালতে খুন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে বাদী-বিবাদীর হাতাহাতির ঘটনার পর সারাদেশের আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে হাইকোর্ট।
কুমিল্লার আদালতে ছুরিকাঘাতে আসামি নিহত হওয়ার পর সারাদেশের আদালতে আইনজীবী, বিচারক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টের আইনজীবী ইসরাত হাসান একটি রিট দায়ের করেন। আজ (বুধবার) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চে ওই রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আদালত মন্তব্য করেছেন, আইনজীবী ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে না।
এ ছাড়া, সারাদেশের আদালতে আইনজীবী, বিচারক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কুমিল্লার ঘটনায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তা জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেয় আদালত। সে পর্যন্ত রিট আবেদনটি স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখেন।
আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, কুমিল্লা এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের দু’টি ঘটনাই ব্যক্তিগত। এ সময় আদালত বলেন, ‘ব্যক্তিগত হোক আর যাই হোক। কোর্টের ভেতরে ছুরি নিয়ে কিভাবে যায়? পুলিশ কী করে? ডেফিনেটলি এটা পুলিশের নেগলিজেন্স।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এক আসামি কর্তৃক আরেক আসামির খুন হয়।
এদিকে, গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে একটি হত্যা মামলার আসামির জামিনকে কেন্দ্র করে বাদী-বিবাদীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনপ্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আদালত কক্ষে খুন বা মারামরির ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে, এখন এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, একজন বিচারকও জনাকীর্ণ এজলাসে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কবোধ করেন!
তিনি বলেন, একটি স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় এখন ঘরে-বাইরে, অফিসে-আদালতে কোথাও কারো নিরাপত্তা নেই। আইন-শৃংখলা বাহিনী বা আদালতের ওপর মানুষের আস্থা নেই। তারই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে আদালত চত্বরে সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনা।
এর আগে গতকাল দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশজুড়ে কেবল গুম, খুন, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, নারী-শিশুদের পাশবিক নির্যাতন, প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে হত্যাসহ দেশ ভরে উঠেছে অনাচার-অবিচারের মহামারিতে।
রিজভী বলেন, কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সামনে এক আসামি আরেক আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এই দৃশ্য অনিরাপদ বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লা আদালতে বিচারকের এজলাসে হত্যা মামলার আসামি ফারুক হোসেনকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করে অপর আসামি আবুল হাসান। আর সে অনুযায়ী মামলায় হাজিরা দিতে আসার সময় বাড়ি থেকেই ছুরিটি নিয়ে এসেছিল খুনি। টার্গেট ছিল ফারুককে যেখানেই পাবে সেখানেই আঘাতের। কিন্তু ফারুক হাজিরা দিতে সরাসরি ঢাকা থেকে আদালতে উপস্থিত হবার কারণে সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কিন্তু মেজাজ ঠিক রাখতে পারেনি হাসান, কাঠগড়ায় ওঠার পরই সঙ্গে রাখা ছুরি দিয়ে আঘাত করে বসে মামাতো ভাই ফারুককে। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি, বিচারকের খাসকামরায় গিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘এজলাস কক্ষে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ রকম জায়গায় কীভাবে একজন মানুষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসতে পারে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাগত দিক থেকে কোনো গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আদালতে কেমন নিরাপত্তা দেওয়া হবে, এটি আদালত ঠিক করে পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের চাহিদা মতোই পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে এমন ঘটনার পর আদালতকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।’