সিলেট: সিলেট ও সুনামগঞ্জের দু’টি পয়েন্টে পানির চাপ বেড়েছে। গতকাল সুনামগঞ্জ সদর ও ধর্মপাশা উপজেলায় বন্যার পানির স্রোতে এক কিশোর ও এক জেলে নিখোঁজ রয়েছে। বন্যার কারণে সুনাগঞ্জে অন্তত ৮৪টি প্রাথমিক স্কুল ও অর্ধশতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে। সুনামগঞ্জে সুরমার পানি বিপদ সীমার ৮৯ সে.মি ও সিলেটের কানাইঘটে ৩৩ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সিলেটের তিনটি ও সুনামগঞ্জের ছয়টিসহ ৯টি উপজেলার অন্তত দু’লাখ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, ‘তিনি ৯৩ টন চাল ও সাড়ে সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে রেখেছেন।’ ধর্মপাশা উপজেলার ধারাম হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকা উল্টে স্রোতে হারিয়ে গেছে পঞ্চাশ বছরের এক জেলে। নবীনগর এলাকার শরবত আলী (১৪) নামে এক কিশোর সকালে কলাগাছের ভেলায় করে বাড়ি থেকে রাস্তায় যাওয়ার পথে ভেলাটি উল্টে নিখোঁজ হয়।
রংপুর: তিস্তা তীরবর্তী গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে আরো ৩শ’ ঘরবাড়ি। বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবার সংকট রয়েছে পনিবন্দী মানুষ। ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে সাউথপাড়া ইসলামিয়া বহুমুখী মাদ্রাসা ও ফ্লাড সেন্টারসহ মূলবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির। ডালিয়ার পানি বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী এএসএম আমিনুর রশীদ জানান, ‘তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৫ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’ গঙ্গাচড়া নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু জানান, ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের তালিকা তৈরি করে ২/১ দিনের মধ্যে সাহায্য দেয়া হবে। পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলিয়া ফেরদৌস জাহান জানান, গতকাল ৫ কেজি করে মোট ৫ টন চাউল ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করেছি।
জামালপুর: জেলা পানিউন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, গতকাল যমুনার পানি বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৯ সে. মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জের চারটি, ইসলামপুরের আটটি, মেলান্দহের দু’টি, মাদারগঞ্জের দু’টি ও সরিষাবাড়ির দুটিসহ মোট ১৮টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার কমপক্ষে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। গত শনিবার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জের চারশ’ পরিবারের মাঝে জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল সাবরিন শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন।
বগুড়া: সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বিপদসীমার ৩০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে আড়াই হাজার হেক্টর জমির ফসল। ৯ টি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ৪২টি প্রাথমিক ও ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ: জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, পদ্মা তীরে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা জলমগ্ন হচ্ছে। প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।
নেত্রকোনা:সড়ক ও জনক পথ বিভাগ মাত্র পাঁচ মাস আগে জেলার শহরের মগড়া নদীর উপর নির্মিত বিকল্প বেইলি সেতুর উত্তর দিকের সড়ক অংশ গতকাল সকালে পানির স্রোতে ধসে গেছে। যে কোন মুহূর্তে পুরো সেতুটি ধসে যেতে পারে। সেতু নির্মাণে ও ডিজাইনে নিম্নমানের কজ হয়েছে বলে জনগণ অভিযোগ করেছেন।
লালমনিরহাট: জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান, এখনও জেলায় প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গাইবান্ধা: জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, করতোয়া, ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি রবিবারও অব্যাহত ছিল। ফলে চারটি উপজেলার আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নতুন করে আরো ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট ২৭ ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। সাথে সাথে ভাঙনও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা ও ১২৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ আরো একলাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
পঞ্চগড়: মহানন্দা নদীর পানি বেড়ে তেঁতুািলয়া উপজেলার ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
কুড়িগ্রাম: উলিপুরে ৮ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর ভাঙনে দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এ পর্যন্ত আট শত ও রাজারহাটে প্রায় দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। নাগেশ্বরীর ১০ ইউনিয়নই প্লাবিত হয়েছে।