জেন-জে দের দিকে কমলার নানান প্রচেষ্টা
‘সময় দ্রুত ছুটে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি ভোটকেন্দ্রে যান এবং আপনার ভোট দিন। ম্যাডিসন, উইসকনসিন জুড়ে আগাম ভোট চলছে।’ গত বুধবার উইসকনসিনে এক নির্বাচনী সমাবেশে ভোটারদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সঙ্গে তখন রেমি ওল্ফ, গ্রেসি আব্রামস, মামফোর্ড অ্যান্ড সন্স এর মতো তারকারাও ছিলেন। এই আয়োজন মূলত জেন-জে ভোটারদের লক্ষ্য করেই করা হয়েছিল।
১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যাদের জন্ম, তারাই হল জেন-জে বা জেনারেশন জেড। বর্তমানে এই প্রজন্মের সদস্যদের বয়স ১২ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার হতে হলে সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হয়। কমলা হ্যারিস ও ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের লক্ষ্য এবার জেন-জে প্রজন্মকে তাদের দিকে টানা।
কমলা হ্যারিসের প্রচার শিবির থেকে জেন-জে প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে নানা রকম কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটের প্রচারের দায়িত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়ের দায়িত্বও তাদেরকে দেয়া হয়েছে।
কমলার শিবির থেকে আশার কথা, উইসকনসিনে সাতজনকে ক্যাম্পাস সংগঠক এবং তরুণ সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। গত বুধবার উচ্ছ্বসিত করতালির মধ্যে উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবারের ভোটার টাই স্ক্যানহফার সামনে আসেন। তিনি কমলা হ্যারিসকে জেন-জে প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি শিক্ষার্থীদেরও দ্রুত ভোট দিতে আহ্বান জানান।
কমলা হ্যারিস বলেন, ‘আমি তোমাদের প্রজন্মকে ভালোবাসি।’ কমলা হ্যারিস তার নির্বাচনী প্রচারে তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের জন্য ধৈর্যচ্যুতি দেখানোর বিষয়টিকে সঠিক বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের শক্তি দেখেছি। আমি তোমাদের জন্য গর্বিত।’
কমলার সমাবেশে জনপ্রিয় জেন-জে তারকা গ্রেসি আব্রামস উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ ও ধারণা আছে, যার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার। আমাদের অংশগ্রহণ এবং আমাদের ভোট এর আগে কখনোই এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। ৪০টির মতো রাজ্যে আগাম ভোট গ্রহণ চলছে। এর আগে ৫ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়ে ফেলেছেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাব এই তথ্য জানিয়েছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে ভোট পড়েছিল, তার এক-তৃতীয়াংশ ভোট এবার আগাম নির্বাচনে দেওয়া হয়ে গেছে। সেই সময় করোনা মহামারির কারণে মানুষ ডাকযোগে বেশি ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার অনেক রাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে সমর্থকদের আগেই ভোট দিতে বলায় বেশি ভোট পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।