৫২ গাজীপুর থেকে।।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের রাজেন্দ্রপুর (নোয়াগাঁও পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আফরোজা আক্তার নীলা গত ফেব্রুয়ারি ২০ তারিখে রাত আনুমানিক ৮.৩০ থেকে ১০.৪০ এর মধ্যে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
মৃত আফরোজা আক্তার নীলা (১৯) গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের রাজেন্দ্রপুর (নোয়াগাঁও পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আবু হান্নানের মেয়ে ও ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্রী ছিলো। নীলার বাবা মা দুজনেই প্রবাসী থাকায় সে তার চাচা চাচীর সাথে থাকতো।
জানা যায়, নীলা কলেজে আসা যাওয়ার পথে ধলাদিয়া (সাইনবোর্ড) গ্রামের আফাজ উদ্দনের বখাটে ছেলে ইকবাল (২৫) তাকে বিরক্ত করতো ও কুপ্রস্তাব দিতো। নীলা ইকবালের সমস্ত ঘটনা বাড়িতে বললে, প্রথমে তারা ইকবালকে সর্তক করেন। এতে কোন কাজ না হলে নোয়াগাঁও গ্রামের রফিকের ছেলে জাহিদের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের পরেও নীলা কলেজে লেখাপড়া করতো। নীলার বিয়ে হওয়ায় বখাটে ইকবাল তার মা, বাবা, ভাইয়ের পরামর্শে ক্ষীপ্ত হয়ে নীলাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের শিকার নীলা তার স্বামীর বাড়ি না যেয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
ওই দিন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক এসআই এখলাস উদ্দিন ফরাজি লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে নীলার চাচা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা করায় বখাটে ইকবালসহ ৪ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত করেন পিবিআই এর অফিসার কাউসার। নীলার মৃত্যুর ৫ মাস কেটে গেলেও এখনো কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। আসামী গ্রেফতার না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে পিবিআই অফিসার কাউসার জানান, লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো আসেনি। মৃত্যুর ৫ মাসেও নীলার মৃত্যুর প্ররোচনাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ার ঘটনা বেদনাদায়ক বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল। নীলার চাচা মহসিন কবির রিপন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমার ভাতিজী যাদের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলো তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করেন, যাতে করে আর কোন বখাটেদের কারণে কোন নীলা অকালে ঝরে না যায়।