৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্যই পরিকল্পিতভাবে গুপ্তহত্যা সংঘটিত করছে। আজ রোববার বিকেলে জাপানের ইম্পেরিয়াল হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা এবং সরকার, দেশ ও জনগণের সম্পদ ধ্বংস করে সরকার উৎখাতে ব্যর্থ বিএনপি-জামায়াত জোট গুপ্তহত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে দেশকে অস্থিতিশীল এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট এখন ধরে ধরে মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, গির্জার পাদরি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ নিরীহ সাধারণ মানুষ হত্যা করে চলেছে। তাদের উদ্দেশ্য শুধু দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করে আদালতের রায় কার্যকর হতে না দেওয়াও তাদের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিককালে রাজধানীর জোড়া খুনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টায় রাজধানীর কলাবাগানে ইউএসএআইডি কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তাঁর এক বন্ধুকে খুন করা হয়।
দেখবেন যেন বদনাম না হয়, প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
সমগ্র বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি এখন অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশকে এখন সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হয়। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশিই তাঁর দেশের একেকজন রাষ্ট্রদূত। কাজেই তাঁদের এ ক্ষেত্রে অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রবাসে আন্তরিকতার সঙ্গে কর্তব্য সম্পাদনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘দেখবেন, আমাদের যেন বদনাম না হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান বরাবরই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান আমরা সব সময়ই স্মরণ করি।’ দেশে প্রস্তাবিত নতুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে জাপানি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের জন্য ঢাকার আশপাশে ৫০০ একর জমি বরাদ্দের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা (জাপানি ব্যবসায়ীরা) সেখানে বিনিয়োগ করবেন এবং নিজস্ব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সরকারের উদ্যোগের কথাও এ সময় উল্লেখ করেন। দেশে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সারা দেশে ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সরকারি উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব কারখানার কাঁচামাল যে অঞ্চলে সহজলভ্য, সে অঞ্চলে সেই ধরনেরই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের তীব্র বাধার মুখেও দেশের জনগণ তাঁকে এবং তাঁর দলকে নির্বাচিত করে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কাজেই তিনি দেশের প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছেন উল্লেখ করে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বিগত সাড়ে সাত বছরে সরকার পরিচালনার বিভিন্ন সাফল্য এবং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, দারিদ্র্যবিমোচন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আইনি লড়াই করে সমুদ্রসীমা জয়ে তাঁর সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে বলেন, এই বিশাল সমুদ্রসীমার সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও জাপান বাংলাদেশকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে অন্যরাও এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এম আক্তারুজ্জামান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে সাকুরা সাবের, সালেহ মোহাম্মদ আরিফ প্রমুখ বক্তব্য দেন। এর আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

























