৫২ জাতীয় ডেস্ক।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের নানা অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছে ছাত্রলীগ ছাড়া প্রায় সব প্যানেল। সেইসঙ্গে অবিলম্বে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ (সোমবার) বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে চারটি প্যানেলের পক্ষ থেকে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী এই ঘোষণা দেন। ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়া চারটি প্যানেল হচ্ছে- বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রহসন-জালিয়াতির এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। হলে নয়, নতুনভাবে ভোট হতে হবে একাডেমিক ভবনে। সেই নির্বাচনে ব্যালটবাক্স হতে হবে স্বচ্ছ। এ ছাড়া এই ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে জোটগুলোর পক্ষ থেকে।
এর কিছু পরে একই স্থানে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তাঁরা এই নির্বাচনকে ‘কালো নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেন।
এদিকে, আগামীকাল (১২ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান।

নুরুল হকের ওপর ছাত্রলীগের হামলা
এদিকে, ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী নূরুল হক নূরকে মারধর করেছে ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, আজ দুপুরে রোকেয়া হলের একটি কক্ষে সিলগালা করা তিনটি ব্যালট বাক্স গোপনভাবে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নুরুল হক এবং পরিষদের কয়েকজন সদস্য হল প্রভোস্টের কাছে যান। তাঁরা ওই কক্ষের ভেতরে কী আছে, তা দেখতে চান। সেখানে থাকা পরিষদের সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী আকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, হল প্রভোস্ট তাঁকে ওই কক্ষে যেতে বাধা দিয়েছেন। প্রক্টর ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার না আসা পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। এর একটু পরে প্রক্টর গোলাম রাব্বানী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার মফিদুর রহমান, প্রভোস্ট জিনাত হুদা, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।এরপর তাঁদের সামনেই তাঁরা ওই ঘরে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে নুরুল হক বাইরে এসে সেখানে কী আলোচনা হয়েছিল, সেটা বলতে গেলে তাঁর ওপর হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলছেন, ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা নুরুল হকের ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁকে মাটিতে ফেলে আঘাত করা হয়। হামলার পর নুরুল হককে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। গণমাধ্যমের একটি গাড়িতে করে বেসরকারি একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ট্রাংকভর্তি ব্যালট পাওয়ার পর রোকেয়া হলে ভোট বন্ধ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চলার মধ্যে একটি কক্ষে ট্রাংকভর্তি ব্যালট পেপার পাওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা তা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ায় রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে গেছে।
রোকেয়া হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ফারহানা ফেরদৌসী বলেন, উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬০৭টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ কারণে বেলা সোয়া ১২টা থেকে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।