জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে মামলার ব্যবসা শুরু হইছে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কারও নামে হয়রানিমূলক মামলা করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবার উচিত এ ব্যাপারে সচেতন থাকা।
এমনকি মারা যাননি এমন মানুষকেও ‘শহীদ’ বানিয়ে মামলা করা হচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ছাত্র-জনতার জয় মিছিলে স্বামী নিহত হয়েছেন বলে এক নারী মামলা দায়ের করেন। কিন্তু তিন মাস পর তাঁর স্বামী বেঁচে ফিরে এসে জানান যে, তাঁকে ‘মৃত’ দেখিয়ে তাঁর স্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা করেছেন। ঘটনাটি ঢাকার আশুলিয়ায় ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৪ অক্টোবর কুলসুম বেগম নামের এক নারী তাঁর স্বামীকে হত্যার অভিযোগ এনে ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি পরে আশুলিয়া থানায় এজাহারভুক্ত করা হয়।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ জহুর আলী ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার এক মাস পর তাঁর ভাই হাফিজ আহমদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এই মামলায় আসামি ধরা এবং ছেড়ে দেওয়া নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জহুর আলী।
জহুর আলী বলেন, "পুলিশ আমাকে গুলি করেছে। আমি পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করব। কিন্তু পরে দেখলাম যে মাসুম হেলাল সবাইকে মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। এই মামলা নিয়ে এখন ব্যবসা শুরু হয়েছে। সে (মাসুম হেলাল) কোটি টাকা নিয়েছে। শুনলাম যে, সে এখন কানাডায় চলে যাবে। টাকা নিয়ে জেলে ঢোকায়, বের করে। মামলায় যাদের নাম নেই তাদেরকে পুলিশ বেশি ধরে।"
জহুর আলীর লাইভ ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। (প্রথম আলো অনলাইন, ১৪ নভেম্বর ২০২৪) বর্তমানে তিনি ঢাকা পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) আছেন।
মিরপুরের একটি হত্যা মামলার বাদী জানান, তিনি থানায় যাওয়ার পর বিএনপি এবং জামায়াতের নেতারা মামলার আসামিদের নাম উল্লেখ করেছেন। খিলগাঁওয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে আসামি করা হয়েছিল। তিনি শুধুমাত্র বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকই ছিলেন না, তিনি ছাত্রদের পক্ষে করা রিটের আইনজীবীও ছিলেন। তিনি হলেন হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। জেড আই খান পান্নার মামলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় তাঁর নাম মামলার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু যেসব মামলা নিয়ে হৈচৈ হয়নি সেসব মামলার মনগড়া আসামিদের এখনও হয়রানি করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ভুয়া মামলা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলেও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। তাহলে কি জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের হতাহতদের ঘটনায় ভুয়া মামলা চলবে?
গোপালগঞ্জের দিনমজুর জামাল মিয়া রাজনীতি করেন না। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শওকত আলী দিদার হত্যা মামলায় তাঁকে আসামি করে ৮ নভেম্বর পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এক মাস আগে জামাল মোল্লার স্ত্রী যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এক সপ্তাহ পর তিনি মারা যান। জামাল মোল্লা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর দুই যমজ সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে ১৩ বছরের শিশু সাজ্জাদ মোল্লার ওপর।
‘মা মারা গেছেন, বাবা কারাগারে’ শিরোনামে খবরটি প্রকাশিত হলে আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ, ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির এবং সিফাত মাহমুদ শুভ। আদালত তিন শিশু সন্তানের দেখভালের জন্য স্থানীয় সমাজকল্যাণ দপ্তরকে নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জামালকে জামিন দিলেও মামলাটি বহাল রয়েছে। জামাল মোল্লার পরিবারের অভিযোগ, মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ করা হলে বাদীপক্ষ ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিল।
৪ অক্টোবর প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি হত্যা মামলায় তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন অন্যতম আসামি। বর্তমানে ওই সচিব সাবেক হয়ে গেছেন। এর আগে এবং পরে অনেক সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। একটি মামলায় ৫৩ জন সাবেক সচিবকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই ৫ বছর আগে অবসরে গেছেন।
এছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টাকেও হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এই উপদেষ্টার নাম সেখ বশির উদ্দিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সোহান শাহ নামের এক যুবককে গ