৫২ রাজনীতি ডেস্ক।।
দেশের চলমান ‘টার্গেট কিলিং’ পরিকল্পিত এবং এতে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।বুধবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ইফতার মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাব মিলনায়তনে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।খালেদা জিয়া বলেন, সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে ‘টার্গেট কিলিং’ হচ্ছে। আর এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত। এ জন্য তাদের ধরা হচ্ছে না।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেদের দলের লোক জড়িত বলেই শেখ হাসিনা বলেছেন- আমি জানি। সেজন্য জেনেও এদেরকে ধরে না। এদের অনেককে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে এখন সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করছে।’
বিএনপি হত্যায় বিশ্বাস করে না- দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করছে, কিন্তু দায় দিচ্ছে বিএনপির ওপর।তিনি বলেন, সাঁড়াশি অভিযানের নামে গণগ্রেফতার করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। কারাগারগুলোতে মানুষের ঠাঁই হচ্ছে না। কারাগারের বাথরুমেও মানুষ জায়গা পাচ্ছে না।’সারা দেশে এ পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজারের মতো গ্রেফতার হয়েছে। ক্রসফায়ারে মারা গেছে ৫০ জন। এই কি দেশ চালানোর নমুনা’ প্রশ্ন তোলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
তিনি দাবি করেন, কোনো ধর্মের মানুষ আওয়ামী লীগের আমলে নিরাপদ নয়। হিন্দুদের ওপর এই সরকার সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করছে, লুটপাট করছে।এ সময় দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আছে কি না এমন প্রশ্ন তুলে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ অবৈধ সরকার সত্যিকারার্থে ক্ষমতায় থেকে দেশ শাসন করছে, নাকি অন্য কোনো শক্তি পেছন থেকে কাজ করছে!’
এসব সমস্যা উত্তোরণে বিএনপির করণীয় নিয়ে তিনি বলেন, অস্ত্র বা সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি করবে। এর মধ্যদিয়ে অচিরেই মানুষ আওয়ামী লীগকে বিতাড়িত করবে।
খালেদা জিয়া বলেন, ঘরে বাইরে কোথাও মানুষ নিরাপদ নয়। এই নিরাপত্তাহীন, গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে মুক্ত হতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণ ও গণতন্ত্র এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে।জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টি আই ফজলে রাব্বীর সভাপতিত্বে ইফতারে ২০ দলীয় জোট ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা যোগ দেন।