ডোনাল্ড ট্রাম্প কী হুশ হারাচ্ছেন?
ডোনাল্ড ট্রাম্প কী হুশ হারাচ্ছেন? এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে আপনি ‘পাগলামি’কে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন তার ওপর। কিন্তু মঙ্গলবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আশা করছেন বলে এই প্রশ্নের উত্তরটা জানাটা গুরুত্বপূর্ণ।
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের আজগুবি আচরণ ও কথা বলার ধরনকে ‘পাগলামি’ হিসেবে দেখছেন।
কমলা হ্যারিস গত সপ্তাহে আবারও ট্রাম্পকে নিয়ে সাবধান করেছেন। ক্ষমতার প্রতি ট্রাম্পের আকর্ষণ সম্পর্কে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের সমালোচনা না করার জন্য কমলা হ্যারিসের প্রশংসা করা উচিত। তবে ট্রাম্পের প্রতি তুলনামূলকভাবে নরম থাকার কারণটা বুঝা কঠিন, কারণ ট্রাম্প শুরু থেকেই তাকে অপমান করে আসছেন।
ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সহজ ভাষায় প্রশ্ন তোলা যায় এভাবে: ট্রাম্প কি সত্যিই তার বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছেন? তার মাথায় কি বাদুড় বাসা বাঁধছে? যদি তিনি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে থাকেন, তাহলে ভোটার এবং বাকি দুনিয়ার তার মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানার অধিকার আছে।
কমলা হ্যারিসের ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে মূল্যায়ন কোনো মানসিক রোগ নির্ণয় নয়। এটি একজন সাধারণ মানুষের সহজ প্রতিক্রিয়া, যা ট্রাম্পের অস্বাভাবিক আচরণ এবং মন্তব্যের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বলে মনে হয়।
গত সপ্তাহে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের উন্মত্ত প্রচারের সাথে নাৎসিদের নুরেমবার্গ সমাবেশের মিল রয়েছে। এ কারণে ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে।
২০১৭ সালে প্রকাশিত "দ্য ডেঞ্জারাস কেস অফ ডোনাল্ড ট্রাম্প" বইয়ে ২৭ জন মনোবিজ্ঞানী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদাররা অনেকগুলি সতর্কতা চিহ্ন দিয়েছেন। বইটিতে মতামত দেওয়া একজন বলেছিলেন যে, ট্রাম্প স্পষ্টতই মানসিকভাবে অস্থির এবং তিনি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, অহংকারী, অজ্ঞ, বিশৃঙ্খল, আত্মকেন্দ্রিক এবং স্বার্থপর।
সাত বছর আগে দেওয়া এই মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতামত এখনও সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। শুধু তাই নয়, প্রশ্নটি এখন আরও জোরালোভাবে উঠছে যে, ‘পাগল কিং জর্জের মতো (যার কর্তৃত্ববাদী শাসন ট্রাম্প অনুসরণ করতে চান), রাজা ট্রাম্পের এই পাগলামিটা আরও খারাপের দিকে যাবে কি না?’
ট্রাম্পের অশালীন এবং অশ্লীল ভাষা বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে তার মানসিক অস্থিরতা খারাপের দিকে যাচ্ছে। সিনিয়র হোয়াইট হাউস পর্যবেক্ষক পিটার বেকার লিখেছেন যে ট্রাম্পের বক্তৃতাগুলি দিন দিন আরও অশালীন হয়ে উঠছে। এ কারণে তিনি ট্রাম্পকে ‘গালি-গালাজের প্রেসিডেন্ট’ বলে অভিহিত করেছেন৷
পিটার লিখেছেন যে শুধু ২০২৪ সালেই ট্রাম্প জনসমক্ষে কমপক্ষে ১,৭৮৭ বার চার অক্ষরের অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছেন। তার বিশ্লেষণ অনুসারে, ট্রাম্প ২০১৬ সালের চেয়ে ৬৯ শতাংশ বেশি এই ভাষা ব্যাবহার করছেন। তিনি কমলা হ্যারিসকে ‘নোংরা ভাইস প্রেসিডেন্ট’ এবং ‘আধপাগল মেয়েমানুষ’ বলে অভিহিত করেছেন। নিঃসন্দেহে, তিনি যা বলেছেন তা সে খুব ভালভাবেই জানেন।
অশালীন ভাষা ব্যবহার যদিও মানসিক রোগের কোনো প্রমাণ নয়, তবে এটিকে রোগের উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মেরিয়াম-ওয়েবস্টার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম অভিধান, একজন উন্মাদকে ‘এমন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে যিনি যুক্তি এবং বিবেক দ্বারা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত নন এবং যুক্তিযুক্ত উপায়ে চিন্তা করতে অক্ষম।’ যখনই ট্রাম্প মুখ খোলেন, তখনই তিনি এই সংজ্ঞায় তার ‘যোগ্যতা’ প্রমাণ করেন। এই সংজ্ঞা তার পক্ষে সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য হয়।
ট্রাম্পের আরেকটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হল তিনি প্রায়ই অহেতুক কথা বলেন এবং স্পষ্টভাবে মিথ্যা কথা বলেন। এগুলো উদাসীন ব্রেনের লোকেদের সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়।
আরেকটি সংজ্ঞা প্রমাণ করে যে ট্রাম্প নিঃসন্দেহে উন্মাদ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন উন্মাদ ব্যক্তি প্রায় সব সময় অত্যন্ত অসন্তুষ্ট, রাগান্বিত এবং চটপটে স্বভাবের হন। ট্রাম্পের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যটি রয়েছে।
তিনি সবসময় ‘প্রচণ্ডভাবে ক্রুদ্ধ বা অসন্তোষের মধ্যে থাকেন’। যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষিপ্ত স্বভাবের, তাকে তার আশেপাশের লোকেরা ‘ভীষণভাবে পাগল’ মনে করতে পারে। এবং এই ধরনের চটপটে স্বভাব যে কাউকে পাগল করে তুলতে পারে। বেশির ভাগ মানুষ বয়স বাড়ার সাথে সাথে চটপটে স্বভাবের হয়ে ওঠে। ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও এটা ঘটতে পারে। তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় যে বার্ধক্যই