গত কয়েক দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের নবায়িত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তিনবার কথা বলেছেন। তাদের আলোচনার বিষয় ছিল তাদের দু’দেশের মধ্যকার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করা।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, আমাদের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা একমত হয়েছি যে আমরা ইরানের সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে এবং তাদের দ্বারা সৃষ্ট বিপদের মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করব। আমরা মনে করি ইসরায়েলের সামনে শান্তি, বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশাল সুযোগ রয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হন। তার দল দেশটির কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যাপকতা নিশ্চিত হয়েছে।
এরই মধ্যে গাজায় ইসরায়েলী হামলা শুরুর এক বছর পার হয়ে গেছে। ইসরায়েলী হামলায় এপর্যন্ত উপত্যকাটিতে কমপক্ষে ৪৩ হাজার ৭৬৪জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৪৯০ জন। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস এবং গাজার অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির হামলার ঘটনায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন। ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এই হামলার পরদিন থেকে গাজা, পশ্চিম তীর এবং লেবাননে পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলী হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে। এপর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৪৪৫ জন মারা গেছেন। ১৪ হাজার ৫৯৯ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের পর ইরান-ইসরায়েলের মধ্যেও পাল্টা হামলা হয়েছে।
ইসরায়েলে ইরাক এবং ইয়েমেন থেকেও হামলা হয়েছে। ইসরায়েল এই দুই দেশেও হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও, প্রতিবেশী দেশ সিরিয়াতে নিয়মিত বিমান হামলা পরিচালনা করছে ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের এত তুমুল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তাঁর আমলের মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা এখনও অস্পষ্ট।